বেতন ও পারিশ্রমিক আইনসমূহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বেতন ও পারিশ্রমিক আইনসমূহ। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।

বেতন ও পারিশ্রমিক আইনসমূহ

 

বেতন ও পারিশ্রমিক আইনসমূহ

 

বেতন ও পারিশ্রমিক আইন বলতে বুঝানো হয়েছে আইন বা আইনানুযায়ী শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত ন্যায্য বিধিবিধান প্রণয়ন করা। তবে সকল দেশের আইন একই রকম নয়। তাই বাংলাদেশে কিছু শ্রম আইন চালু হয়। নিম্নে তা দেওয়া হলো :
i. বেতন ও পারিশ্রমিক প্রদানে মালিকের দায়িত্ব (ধারা-১৫০)

১. প্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থায় যদি কোনো কর্মী দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় বা কোনো ব্যথা পায় তবে সেক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে বেতন ও পারিশ্রমিক দিতে হবে ।

২. দুর্ঘটনার ফলে কর্মী যদি সম্পূর্ণরূপে কর্মদক্ষতায় ব্যর্থ না হয় তবে বেতন ও-পারিশ্রমিক বাধ্যতামূলক নয় । যদি-
ক. তিন দিনের বেশি সময় কর্মক্ষমতা না হারানো:
খ. দুর্ঘটনার সময় মারা যাননি এমন কোনো শ্রমিকের দুর্ঘটনায় জখমপ্রাপ্ত হওয়ার প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছিল ।
গ. জখম প্রাপ্ত হওয়ার সময় কর্মী মদ্যপ ছিল;

ঘ. প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত নিয়মকানুন কর্মী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে মান্য না করা; এবং
ঙ. ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মী কর্তৃক নিরাপত্তা কৌশল ব্যবহার না করা। তবে (ক) ধারা অনুযায়ী কোনো শ্রমিক পেশাজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত ২নং বা ২ (খ) ধারায় বর্ণিত কোনো শ্রমিক চাকরি সম্পর্কিত বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং যদি না মালিক পক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ করেন, দুর্ঘটনাটি চাকরিকালীন সময়ে উদ্ভূত বলে গণ্য হবে।

ii. বিপজ্জনক ভবন এবং যন্ত্রপাতি সম্পর্কিত তথ্য প্রদান (ধারা-৮৬) এ ধারায় বর্ণিত বিষয়সমূহ হলো :

১. . প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক অবশ্যই মালিক পক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করবে।

২. ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পর্কিত তথ্য পাবার তিন দিনের মধ্যে মালিকপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে উক্ত সময়ের মধ্যে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন এবং শ্রমিক জখমপ্রাপ্ত হন তাহলে এরূপ জখমের জন্য দ্বিগুণ হারে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকবেন।

iii. চুক্তির ক্ষেত্রে বেতন ও পারিশ্রমিক (ধারা-১৬১) এ ধারায় বর্ণিত বিষয়সমূহ হলো :

১. মালিকপক্ষ কোনো কাজের জন্য যদি “ঠিকাদার” নিযুক্ত করেন সেক্ষেত্রে তার দ্বারা নিযুক্ত শ্রমিক বেতন ও পারিশ্রমিক পাবেন এবং ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত শ্রমিকও বেতন ও-পারিশ্রমিক প্রাপ্ত হবেন । মধ্যে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন এবং শ্রমিক জখমপ্রাপ্ত হন তাহলে এরূপ জখমের জন্য দ্বিগুণ হারে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকবেন।

iii. চুক্তির ক্ষেত্রে বেতন ও পারিশ্রমিক (ধারা-১৬১) এ ধারায় বর্ণিত বিষয়সমূহ হলো :

১. মালিকপক্ষ কোনো কাজের জন্য যদি “ঠিকাদার” নিযুক্ত করেন সেক্ষেত্রে তার দ্বারা নিযুক্ত শ্রমিক বেতন ও পারিশ্রমিক পাবেন এবং ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত শ্রমিকও বেতন ও-পারিশ্রমিক প্রাপ্ত হবেন ।

২. কোনো মালিকপক্ষ এই ধারার অধীন কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য হন। শ্রমিক যদি ঠিকাদারের বা কোনো ব্যক্তির নিকট হতে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারতেন সেক্ষেত্রে উক্ত মালিক পক্ষ ঠিকাদার বা উক্ত ব্যক্তির নিকট হতে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য হবেন। এইরূপ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ চুক্তির অবর্তমানে শ্রম আদালত নিষ্পত্তি করবে ।

৩. শ্রমিক কর্তৃক আদায়কৃত ক্ষতিপূরণ মালিকের পরিবর্তে ঠিকাদারের নিকট হতে আদায় করা বুঝাবে না ।

iv. বেতন ও পারিশ্রমিক পরিমাণ (ধারা-১৫১) :

এই ধারায় বর্ণিত বিধিবিধানসমূহ হলো :
১. বেতন ও-পারিশ্রমিকের পরিমাণ হবে-
ক. জখমের ফলে যদি শ্রমিকের মৃত্যু হয় তাহলে পঞ্চম তফসিলের দ্বিতীয় কলামে যে অর্থের পরিমাণ বলা হয়েছে;

খ. জখমের ফলে যদি স্থায়ী অক্ষমতা ঘটে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে ৫ম তফসিলের ৩য় কলামে যে অর্থের পরিমাণ বলা আছে সেই পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে।

২. সংশ্লিষ্ট শ্রমিকটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে দশ হাজার টাকা প্রাপ্ত হবেন;
ক. যদি স্থায়ী আংশিক অক্ষমতা ঘটে, তাহলে-

১. শ্রমিকের জখমটি ১ম তফসিলে বর্ণিত হলে, স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের শতকরা হার যা তফসিলে উল্লিখিত উক্ত জখমের কারণে উপার্জন ক্ষমতাহানির শতকরা হারের সমান;

২. শ্রমিকের জখমটি ১ম তফসিলে বর্ণিত হলে, স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের শতকরা হার যা শ্রমিকের জখমের কারণে স্থায়ীভাবে উপার্জন ক্ষমতাহানির অনুপাতের সমান;

খ. শ্রমিকের জখমের ফলে যদি সম্পূর্ণ বা আংশিক অস্থায়ী অক্ষমতা ঘটে তাহলে মাসিক ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত হবেন অক্ষমতার তারিখ হতে চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর যে মাসে প্রদেয় হবে এর পরবর্তী মাসের প্রথম দিনে প্রদেয় হবে ।

পরিশেষে বলা যায় যে, ২০০৬ সালের বাংলাদেশে শিল্প আইন অনুযায়ী এটিই শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির বিবরণ ।

 

বেতন ও পারিশ্রমিক আইনসমূহ

Leave a Comment