উৎসাহদায়ক পারিতোষিক প্রদানের সময় বিবেচ্য বিষয়

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় উৎসাহদায়ক পারিতোষিক প্রদানের সময় বিবেচ্য বিষয়। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।

উৎসাহদায়ক পারিতোষিক প্রদানের সময় বিবেচ্য বিষয়

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে তাদের আরও উৎসাহী করে তোলার জন্য অতিরিক্ত যে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় তাকে উৎসাহক পারিশ্রমিক বলে। কর্মীদের উৎসাহক পারিশ্রমিক প্রদানের অন্যতম একটি কারণ হলো প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ মনাফা অর্জন। প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থাপনার যে কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিবেচ্য বিষয় থাকা আবশ্যক।

যদি সেই বিষয়সমূহ অবলম্বন করা না হয় সেক্ষেত্রে কোনো দিনও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয় । সুতরাং কর্মীদের উৎসাহক পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব বিবেচ্য বিষয় রয়েছে তা নিম্নরূপ :

 

উৎসাহদায়ক পারিতোষিক প্রদানের সময় বিবেচ্য বিষয়

 

উৎসাহক পারিশ্রমিক প্রদানের সময় বিবেচ্য বিষয়সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো :
১. অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস (To reduce excessive cost) : উৎসাহক পারিশ্রমিক প্রদানের সময় যে বিষয় বিবেচনা করা হবে তা হলো অতিরিক্ত ব্যয়। প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য শুধু ব্যয় করলে চলবে না। এতে করে উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। তাই কেমন করে প্রতিষ্ঠানের উপরি খরচগুলো হ্রাস করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

২. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (To increase productivity) : প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যই হলো উৎপাদন বৃদ্ধি করা। তাই উৎসাহক পারিশ্রমিক-প্রদানের আগে যাচাই করে নিতে হবে যে, এর ফলে উৎপাদন বাড়ছে কি না। যদি না বাড়ে তবে এতে প্রতিষ্ঠান ও মালিক, ব্যবস্থাপক উভয়কে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

৩. ব্যয় হ্রাস (To reduce cost) : যে কোনো ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এর কথা চিন্তা করতে হবে। কারণ প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানের ব্যয় যদি বাড়তে থাকে তবে সাফল্য অর্জন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। সুতরাং ব্যয় হ্রাসের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

8. মুনাফা বৃদ্ধি (To increase profit) : কর্মীদের উৎসাহক পারিশ্রমিক-প্রদানের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এই ব্যবসায় প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানে মুনাফা বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না। যদি মুনাফা বৃদ্ধি না পায় তবে এতে কর্মীদের লাভ হলেও মালিক অধিক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

৫. সন্তোষজনক বোনাস (Satisfactory bonus) : কর্মীদের সন্তোষজনক বোনাস প্রদানের মাধ্যমে কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানো যায়। তাই উৎসাহক পারিশ্রমিক-প্রদানের পূর্বে পর্যালোচনা করতে হবে যে, এতে কর্মীরা বোনাস পাবে কি না । তা না হলে তারা কাজে অসন্তুষ্টি বোধ করবে এবং তারা কাজে অবহেলা করা শুরু করবে।

৬. সম্পর্কের উন্নয়ন (To develop relationship) : উৎসাহক পারিশ্রমিক-প্রদানের কারণে ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে নাকি উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে তা বিবেচনা করতে হবে। যদি মালিক ও কর্মী পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক ভালো না থাকে তবে প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না বরং আরও ক্ষতির দিকে অগ্রসর হবে ।

৭. কর্মী দক্ষতা (EffDciency of employees) : প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের কার কেমন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা রয়েছে তার উপর নির্ভর করে উৎসাহক পারিশ্রমিক-প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। সকলকেই যদি একই রকম সুবিধা দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয় তবে প্রতিষ্ঠানে দ্রুত গতিতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে ।

৮. সহজ পদ্ধতি (Easy method) : উৎসাহক পারিশ্রমিক প্রদানের ব্যবস্থা অবশ্যই সহজ পদ্ধতিতে হতে হবে, যাতে সকলে তা বুঝতে পারে। সহজে বুঝতে না পারলে শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হতে পারে।

৯. কর্মীর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি (To increase employee’s satisfaction) : প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। উৎসাহক পারিশ্রমিক-প্রদানের পূর্বে খেয়াল রাখতে হবে যে, কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ আছে কিনা বা তারা এই পারিশ্রমিক পেয়ে সন্তুষ্ট কি না ।

১০. আইনানুগ নীতিমালা (Legal principle) : উৎসাহক পারিশ্রমিক-প্রদানের ব্যবস্থাটি অবশ্যই আইনের আওতায় থাকতে হবে। কারণ আইনসম্মত না হলে এই ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আইনের নীতিমালা অনুসরণ করে উৎসাহক পারিশ্রমিক পদ্ধতি চালু করতে হবে ।

পরিশেষে বলা যায় যে, উপর্যুক্ত সকল বিষয় উৎসাহক পারিশ্রমিক প্রদানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল বিষয়ের উপর অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

 

উৎসাহদায়ক পারিতোষিক প্রদানের সময় বিবেচ্য বিষয়

Leave a Comment