লিংকনের প্রণোদনা সিস্টেম

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় লিংকনের প্রণোদনা সিস্টেম। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।

লিংকনের প্রণোদনা সিস্টেম

লিংকনের প্রণোদনা সিস্টেম

 

জেমস লিংকন (James Lincon) ছিলেন লিংকন ইলেকট্রনিক কোম্পানি-এর জেনারেল ম্যানেজার। তিনি ১৯১৪ সালে এ কোম্পানিতে একটি উৎসাহক পারিশ্রমিক পরিকল্পনা (Incentive compensatoin plan) তৈরি করেন। বিশ বছর প্রচেষ্টার পর তার এ পরিকল্পনাটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়। এই পরিকল্পনার প্রধান প্রধান নীতিগুলো নিম্নরূপ :

১. কোম্পানি শ্রমিক-কর্মীদের মধ্যে যাদের চাকরি কমপক্ষে ৩ বছর হয়েছে তাদেরকে সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা করে বছরে কমপক্ষে ৫০ সপ্তাহ কাজের নিশ্চয়তা প্রদান করে। তবে এ নিশ্চয়তা নির্দিষ্ট কোনো পারিশ্রমিক ও বেতন পরিশোধের হার বুঝায় না এবং তারা এক কাজ থেকে আর-এক কাজে অবশ্যই বদলি হতে পারবে; এবং বেশি চাহিদার সময় তারা বাড়তি সময় (Overtime) কাজ করতে পারবে। কোম্পানি ৬ মাস পূর্বে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল করার অধিকার রাখে ।
২. ক্ষতিপূরণ করা যায় এমন ছয়টি উপাদান বিবেচনায় রেখে প্রতিটি কাজের গুরুত্ব নির্ধারণের জন্য কার্যমূল্যায়ন করতে হবে। উপাদানগুলো হলো : মানসিকতা, দক্ষতা, দায়িত্ব, মানসিক প্রয়োগ, শারীরিক প্রয়োগ ও কর্মপরিবেশ ।

৩. অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মীকে Piece rate প্রণোদনা পরিকল্পনাধীন হতে হবে। অর্থাৎ যে যতটা উৎপাদন করবে, তার পারিশ্রমিক ও বেতন তত বাড়বে।

৪. শ্রমিক-কর্মীকে বিভাগীয় প্রধানগণ এবং প্রকৌশল ও সময় নিরীক্ষণ বিভাগের সদস্যগণ ব্যতীত পরামর্শ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৫. বছরে দুই বার কর্ম মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রত্যেক শ্রমিক কর্মীর পারিশ্রমিক ও বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে চারটি চলক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন:

i. নির্ভরযোগ্যতা,

ii. গুণ,

iii. উৎপাদনের পরিমাণ এবং

iv. ধারণা ও সহযোগিতা ।

৬. চাকরির এক বছর পর প্রতিটি শ্রমিক-কর্মী কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করতে পারবে।

৭. শ্রমিক-কর্মীগণ উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য নির্বাচন করে থাকবে। এই বোর্ডের পলিসি ও কার্য পরিবর্তনের জন্য পরামর্শ দেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে সমগ্র পরিবর্তনই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ করে থাকে ।

৮. একটি স্বাধীন কার্য দল গঠন করা যাবে। সেখানে শ্রমিক- কর্মীগণ Piece rate পদ্ধতিতে পারিশ্রমিক পেতে পারেন।

৯. প্রতিষ্ঠানের সমগ্র মুনাফা তিনটি উপায়ে ভাগ হতে পারে। যেমন:
i. একটি অংশ মূলধনের জন্য সংরক্ষণ করা যায়;
ii. শেয়ার হোল্ডারগণ লভ্যাংশ পায়; এবং
iii. পরবর্তীতে শ্রমিক কর্মীগণ অবশিষ্ট মুনাফার সবটুকুই পাবে ।

১০. শ্রমিক-কর্মীদের বার্ষিক নগদ মুনাফার পরিমাণ থেকে তাদের বার্ষিক আয় অনুমান করা যায়।

পরিশেষে বলা যায় যে, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকিয়ে রাখার জন্য শ্রমিক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রণোদিতকরণের জন্য একটি ফলপ্রসূ প্রণোদনা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেন প্রতিষ্ঠান লাভবান হতে পারে ।

 

লিংকনের প্রণোদনা সিস্টেম

 

Leave a Comment