আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় স্টক ক্রয় পরিকল্পনা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।
স্টক ক্রয় পরিকল্পনা

স্টক ক্রয়-পরিকল্পনা অতি পরিচিত ও সাধারণ একটি ব্যাপার। এটি করযোগ্য একটি পরিকল্পনা। এটি এমন এক ধরনের পরিকল্পনা, যার অধীনে প্রত্যেক কর্মী প্রতিষ্ঠানের স্টক ক্রয় করার অধিকার রাখে। অভ্যন্তরীণ রেভিনিউ কোড (IRC) ধারা ৪২৩ মোতাবেক প্রতিটি কোম্পানিকে ‘স্টক ক্রয় কর্মসূচি’ চালু রাখার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কর্মীদের স্টক ক্রয় অনুমতি পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে কর্মীদের তা ক্রয় করতে হবে।
স্টকের মূল্য বর্তমান বছরের মূল্যের ৮৫% হবে । অর্থাৎ ১৫% কম দামে কর্মীরা স্টক ক্রয় করতে পারবে। তবে কোনো কর্মী ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকার বেশি স্টক ক্রয় করতে পারবে না। কর্মীরা যে পুরস্কার বা মুনাফার অংশ পায় সেগুলো দিয়েও তারা স্টক ক্রয় করতে পারবে। নগদ অর্থ ব্যয় না করে স্টকের মূল্য সমন্বয় করে তা করা যায়।
কোম্পানি নির্বাহীদের জন্য কর অযোগ্য স্টক ক্রয়-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে, এ ধরনের স্টক ক্রয়-পরিকল্পনার কতকগুলো শর্ত আছে যা মানতে হবে। যেমন:
i. স্টকহোল্ডারকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাকরিতে বহাল থাকতে হবে;
ii.কোম্পানি পুনরায় এ স্টকগুলো কিনে নিতে পারবে;
iii.স্টকহোল্ডার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্টক বিক্রি করতে পারবে না;
নির্বাহী স্টক ক্রয়-পরিকল্পনা কয়েক ধরনের হয়। যেমন:
i. সম্পূর্ণ বাজার মূল্য;
ii.কার্যসম্পাদনভিত্তিক স্টক ক্রয়-পরিকল্পনা;
iii.বাট্টাকৃত স্টক ক্রয়-পরিকল্পনা এবং
iv.বিশেষ সূত্র মূল্য-প্রয়োগে স্টক ক্রয়-পরিকল্পনা ।
i. সম্পূর্ণ বাজার মূল্য স্টক ক্রয় পরিকল্পনা (Full market price stock purchase plan) : এ ধরনের স্টকের ক্ষেত্রে কর্মীকে সম্পূর্ণ বাজার মূল্য পরিশোধ করে স্টক ক্রয় করতে হবে। এজন্য কোম্পানি বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করে থাকে।
ii. কার্যসম্পাদনভিত্তিক (Performance) : এক্ষেত্রে নির্বাহীরা স্টক ক্রয়ের জন্য ঋণ সুবিধা পাবে। তবে তাদেরকে ঋণ শোধ করতে হয় না। বিনিময়ে বিশেষ কোনো কার্যসম্পাদন করে দিলেই ঋণ পরিশোধ হবে। এজন্য এ ধরনের পরিকল্পনাকে কার্যসম্পাদনভিত্তিক স্টক ক্রয়-পরিকল্পনা বলে ।
iii. বাট্টাকৃত (Discounted) : এক্ষেত্রে বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কর্মীর নিকট স্টক বিক্রি করা হয়। তবে এর শর্ত হলো, কর্মী যদি নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যায়, তা হলে কোম্পানি পুনরায় তা ক্রয় করবে।
iv. সূত্র মূল্য প্রয়োগ (formula value) : এক্ষেত্রে সূত্র প্রয়োগ করে স্টকের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। যেমন: বুক ভ্যালু, কর্মীর আয় ইত্যাদি।

