আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১০ এর অন্তর্গত।
কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা

কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা কী তা জানার পূর্বে কার্যসম্পাদন কী তা জানতে হবে। সাধারণভাবে বলতে গেলে কার্যসম্পাদন হলো অর্জিত ফলাফলের হিসাব বা রেকর্ড। কার্যসম্পাদন হলো এমন কিছু যা ব্যক্তি পিছনে ফেলে এসেছে এবং যা উদ্দেশ্যের সাথে বেঁচে থাকে ।
Kane, Ross, Spina ও Johnson-এর মতে, “কার্যসম্পাদনকে বলা যেতে পারে কর্মীর কাজের ফল। কারণ, তারা অর্থনৈতিক অবদান, ক্রেতা সন্তুষ্টি ও প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করে।” (Performance should be defined as the outcomes of work because they provide the strongest linkage to the stretigic goals of the organization, customer satisfaction and economic contributions.)
অন্যদিকে, কার্যসম্পাদনকে ‘আচরণ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে- যেভাবে প্রতিষ্ঠান, দল ও ব্যক্তি কার্যসম্পাদন করে। কার্যসম্পাদনের সবচেয়ে কার্যকর সংজ্ঞা দিয়েছেন Brumbranch। তিনি বলেন, “কার্যসম্পাদন হলো: আচরণ ও ফলাফল উভয়ই। কার্যসম্পাদনকারীর নিকট থেকে আচরণ আসে এবং তার চিন্তা থেকে কার্য এবং কার্যসম্পাদনে রূপান্তরিত হয়। ফলাফল শুধু যন্ত্রের জন্য নয়, আচরণের জন্যও হয়।”
(“Performance as both behavior and results. Behaviours emanare from the performer and transform performance from abstruction to action. Not just the instruments for results, behaviors are also outcomes.”) এখন দেখা যাক কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা বলতে কী বুঝায়। সাম্প্রতিক সময়ে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অনুকূল উন্নয়ন।
কার্যসম্পাদন ব্যস্থাপনা হলো কতগুলো উপাদানের মধ্যে সংযোগসাধন যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্যার্জন করা হয়, উপাদানগুলো হলোঃ উদ্দেশ্য নির্ধারণ পদ্ধতি, সম্পাদিত কার্য-মূল্যায়ন পদ্ধতি, বিভিন্ন পরিশোধ সিস্টেম উন্নয়ন এবং পেশাগত উন্নয়ন প্রভৃতি । কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো কৌশলগত বিষয় (Stretegic)।
কারণ, এটি ব্যক্তি উদ্দেশ্যকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের সাথে সংযোগসাধন করে এবং এটি সমন্বয়সাধনকারী ও একত্রে কার্যসম্পাদনকারী (integrated)। কারণ, এটি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিকের সমন্বয়সাধন করে। একটি কাজ সফলভাবে হয়ে গেলে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা উহা প্রতিষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত ব্যবসায় কৌশল ও উদ্দেশ্যের আলোকে ব্যক্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় দিকেই মূল্যায়ন করে ও যথাযথ উন্নয়ন সাধন করে।
আদর্শগতভাবে এটি কর্মীদের কার্যসম্পাদনের মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় পরিচালনার ভিত্তি তৈরি করে ও ভবিষ্যতের জন্য উন্নয়ন সাধন করে। এ কারণে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার প্রতি উচ্চপর্যায় ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সকল কর্মীদের বিশেষ নজর দিতে হবে।
কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে কর্মীদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রতিষ্ঠান তাদের নিকট কী প্রত্যাশা করে এবং কীভাবে তারা সবচেয়ে ভালো কাজ প্রতিষ্ঠানকে উপহার দিতে পারবে। ভালো কাজের জন্য তারা কী সুবিধা পাবে তাও তারা জানতে পারে। ফলে কর্মীরা নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠানের একজন মনে করতে পারে এবং উৎসাহের সাথে কাজ-কর্ম সম্পাদন করতে সর্বোতভাবে চেষ্টা করে।
Herman Aguinis-এর মতে, “কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো ব্যক্তি ও দলের সম্পাদিত কার্যের চিহ্নিতকরণ, পরিমাপ ও উন্নয়ন সাধন এবং প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে সংযোগসাধনের একটি চলমান প্রক্রিয়া।” (Performance management is a continous process of identifying, measuring and developing the performance of individuals and teams and aligning performance with the strategic goals of the organization.)
Ronrie Malcom- এর মতে, “কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো: ব্যক্তির কার্যসম্পাদন পরিচালনার পদ্ধতিগত ও পরিকল্পিত Go to Settings to a পদ্ধতি যা ব্যক্তিক উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের প্রতি অবদান রাখার নিশ্চয়তা দেয়। ” (Performance management may be defind as a planned and systematic approach to managing the performance of individuals ensuring their personal development and contribution towards organizational goals.)
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার কতিপয় বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়:
(i) এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া;
(ii) এটি কার্যসম্পাদনের নিয়ন্ত্রক সংজ্ঞায়িত ও প্রতিষ্ঠা করে;
(iii) এটি প্রণোদনা, অঙ্গীকার ও যোগ্যতার উন্নয়নসাধন করে এবং প্রয়োগ করে;
(iv) এটি কর্মীদের ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে;
(v) এটি নির্ধারিত উদ্দেশ্যের আলোকে প্রকৃত সম্পাদিত কাজের তুলনা করে এবং প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ।
সুতরাং বলা যায় যে, কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত ও অনুধাবিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠান ও এর ব্যবসায় প্রক্রিয়ার কার্যসম্পাদন পরিচালনার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি। নিচে চিত্রের মাধ্যমে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা উপস্থাপন করা হলো:

চিত্র : কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার সংক্ষিপ্তরূপ
