আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যসমূহ। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১০ এর অন্তর্গত।
মানব সম্পদ কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যসমূহ

কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো বাজারে প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রধান সাংগঠনিক কৌশল। এটি প্রতিষ্ঠানের নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের প্রয়াস চালায়
১. প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নির্ধারণের কৌশল ঠিক করা এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায় তার পরিকল্পনা করা ।
২. পরিকল্পনানুযায়ী বাস্তবে কৌশলকে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না তা পরীক্ষার মাধ্যমে কৌশল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা।
৩. বর্ণিত কৌশলের বিষয়বস্তু যে সঠিক ও এগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি তার উপর আলোকপাত করা ।
8. কর্মীদের লক্ষ্যের সাথে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের সংযোগসাধনপূর্বক কর্মীদেরকে প্রেষণাদানের মাধ্যমে সবচেয়ে ভালো কার্যসম্পাদন অর্জন করা ও তা দীর্ঘস্থায়ী করা ।
৫. প্রত্যাশিত কার্যসম্পাদনের ফলাফল অর্জিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা।
৬. আপোষহীন বিষয়সমূহ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যে, প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মান অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।
৭. প্রতিষ্ঠান প্রতিটি কর্মীর নিকট থেকে কী ধরনের কাজ প্রত্যাশা করে, তা যথাযথভাবে যোগাযোগ করা বা তাদের নিকট সেই তথ্য পৌঁছে দেওয়া ।
৮. বাইরের সুবিধাভোগীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা ।
৯. প্রত্যাশিত লক্ষ্যের বিপরীতে কর্মী নিজে, তাঁর দল এবং প্রতিষ্ঠান সার্বিকভাবে কীভাবে কতটুকু কার্যসম্পাদন করছে, সে সম্পর্কে প্রতিফলন বা প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থা করা।
১০. প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য ও কৌশলের আলোকে কর্মীদের আচরণ মূল্যায়ন করা ও পুরস্কার প্রদান করা যাতে কাজের প্রতি তাদের মনোযোগ আকৃষ্ট হয় ।
১১. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যন্ত্রপাতি, বিভাগ, দল ও ব্যক্তির কার্যসম্পাদনের আলোকে গুনগতমান নির্ধারণ করা ।
১২. কর্মীদের চিন্তা, কার্য ও ফলাফল বিবেচনাপূর্বক একটি গতিশীল কার্য সংস্কৃতি ও পরিবেশ উন্নয়ন করা ।
১৩. কার্যসম্পাদনের উপাত্তসহ ব্যবস্থাকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সকলকে অবহিতকরণ।
১৪. প্রতিষ্ঠানকে ন্যায় ও উদ্দেশ্যগতভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে কর্মীদের মধ্যে লুকায়িত মেধাকে জাগিয়ে তোলা ও পরিচর্যা করা যাতে প্রতিষ্ঠানের সকলেই উন্নয়ন ও শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয় ।
১৫. কর্মীদেরকে ক্ষমতায়ন করা যেন তাঁদের কার্যসম্পাদনের নিয়ামক তাঁরাই ঠিক করতে পারে যাতে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যার্জনই হবে তাঁদের মূল লক্ষ্য।
পরিশেষে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যসমূহকে সংক্ষেপে তিনটি ধারায় বিভক্ত করা যায়। যেমন:
(i) কৌশলগতঃ যেখানে কৌশল নির্ধারণ, পরিচালনা, বাস্তবায়ন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ধারণাসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে ।
(ii) যোগাযোগঃ যেখানে কর্মীদের নির্দেশনা, কার্য প্রতিক্রিয়া, মান নির্ধারণ ও যাচাইকরণ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকে ।
(iii) প্রণোদনা: কর্মীদের আচরণ, কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন ও পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক উন্নয়ন ও শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিতকরণ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকে ।

