কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১০ এর অন্তর্গত।

কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা

 

কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা

প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অনেকাংশে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার উপর নির্ভরশীল। এটি ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা ব্যবস্থাপনাকে সমগ্র কার্য পরিচালনা ও বাস্তবায়নের ভিত্তি প্রদান করে। পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিশ্চয়তার আশ্বাস প্রদান করে আশান্বিত ও কর্মক্ষম করে তোলে। নিম্নে পরিকল্পনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করা হলো:

১. উদ্দেশ্য অর্জন: পরিকল্পনার প্রধান কাজ হলো বিশৃঙ্খলা দূর এবং ঝুঁকি হ্রাসপূর্বক সহজতম পন্থায় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা করা। পূর্বপরিকল্পনা থাকায় এর আলোকে পলিসি নির্ধারণ ও কর্মসূচি গ্রহণে পরিকল্পনা প্রণেতাদের সুবিধা হয় ।

২. দক্ষতা অর্জন: প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের ধ্যানধারণা ও চিন্তা স্বতন্ত্র হলেও পরিকল্পনা সকলের সাথে ঐকতান বজায় রেখে সার্বিক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রণীত হয়। ফলে পূর্বনির্ধারিত সুস্পষ্ট কার্যক্রমের আওতায় কার্যসম্পাদনের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন সহজতর হয়।

৩. ব্যয় হ্রাস: বিভিন্ন প্রকার নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করে পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হয়। এটি সর্বোত্তম বিকল্প প্রদান করে বলে অপচয় হ্রাস পায় এবং মিতব্যয়িতা অর্জিত হয়।

8. কারবারের সমৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ: পরিকল্পনা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসায়ের ঝুঁকি হ্রাস ও অনিশ্চয়তা দূর করে ব্যবসায়ের কার্যকলাপ সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সহজতর করে।

৫. ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কার্যাবলি বাস্তবায়ন: পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার সকল কার্যাবলির ভিত্তিস্বরূপ। ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজই সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। তাই পরিকল্পনা অন্যান্য কার্যাবলির কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

৬. সঠিক কার্যধারা অনুসরণ: পরিকল্পনা ব্যবসায়িক কার্যকলাপের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে। এর ফলে ব্যবসায়ের পরিবেশ কাম্য অবস্থায় বিরাজ করে ও একজন ব্যবস্থাপক প্রাসঙ্গিক ও মৌলিক বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করে মুখ্য উদ্দেশ্য অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে ।

৭. ভবিষ্যৎ দর্শন: পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনাসহ সব পক্ষকে ভবিষ্যৎ দর্শনে সহায়তা করে। এর সাহায্যে ভবিষ্যত কর্মসূচি এক পলকে সহজে অনুধাবন করা যায়। তাই Koontz & O. Donnell পরিকল্পনাকে “Looking Glass” এর সাথে তুলনা করেছেন ।

৮. অনিশ্চয়তা দূরীকরণ: যেহেতু পরিকল্পনা আন্দাজ বা অনুমান নির্ভর নয় এবং তথ্যাদি সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও বিকল্প নির্ধারণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে করা হয়, তাই পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি হ্রাস পায় ।

৯. ভারসাম্য রক্ষা: পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। এটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যস্থল ও লক্ষ্যমাত্রার উত্তম পথের একটা অগ্রিম নকশা প্রদান করে ।

১০. নিয়ন্ত্রণে সাহায্য দান: পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণের জন্য আদর্শমান হিসেবে কাজ করে। পরিকল্পনার অভাবে অর্জিত ফলাফল পরিমাপ, বিচ্যুতি নির্ধারণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়।

১১. গতিশীল নেতৃত্বের সুযোগ: উত্তম পরিকল্পনা একজন ব্যবস্থাপককে গতিশীল নেতৃত্বের সুযোগ দান করে ।

১২. সমস্যা সমাধান: প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে উদ্ঘাটিত সমস্যা সুচিন্তিত পরিকল্পনার আওতায় নির্ভুলভাবে ও দ্রুততার সাথে সমাধান করা যায়।

পরিশেষে বলা যায়, একটি উত্তম পরিকল্পনা থেকে উল্লিখিত সুবিধাগুলো লাভ করা যায় । তাই আধুনিক ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নে সব সময় সতর্ক ও ব্যতিব্যস্ত থাকতে দেখা যায় ।

 

কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা

Leave a Comment