আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় উচ্চ-কার্যসম্পাদন কৌশলের সংজ্ঞা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১১ এর অন্তর্গত।
উচ্চ কার্যসম্পাদন কৌশলের সংজ্ঞা

নাম থেকেই বোঝা যায় যে, উচ্চ-কার্যসম্পাদন কৌশল কী? এটি এমন একটি কৌশল যা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাত্রায় কার্যসম্পাদন করতে সক্ষম হয় এবং প্রতিযোগীদের সাথে তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারে। এটি এমন কৌশল যা বলে দেয় কীভাবে মানুষকে ব্যবহার করে কার্যসম্পাদনের মান উন্নয়ন করে তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করা যায়। এর উদ্দেশ্য হলো: প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উদ্দেশ্যার্জনে সমর্থন দেওয়া।
এ বিষয়ে সমর্থন দেওয়া যায় “উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য -সিস্টেম (HPWS) এর মাধ্যমে। এখন দেখা যাক উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য সিস্টেম কি?
Appelbaum ও তার সহযোগীরা বলেন, “উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য-সিস্টেম” হলো কতকগুলো পদ্ধতির সমাহার যা কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা, দক্ষতাবৃদ্ধি এবং প্রেষণা বাড়াতে পারে।” Armitage and Keeble Allen গবেষণা পরিচালনা করেন এবং বলেন যে, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা করাই উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্যকর করার মূল ভিত্তি গড়ে তোলে।” তারা HPWS বুঝতে তিনটি বিষয় তুলে ধরেন।
(i) একটি উন্মুক্ত ও সৃজনশীল সংস্কৃতি অর্থাৎ মানবকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক যেখানে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত সকলের নিকট পৌঁছানো যায় ।
(ii) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, আনুগত্য, অন্তর্ভুক্তি ও পরিবর্তনশীল কাজের মাধ্যমে মানব সম্পদে বিনিয়োগ করতে হবে।
(iii) পরিমাপযোগ্য কার্যসম্পাদন ফলাফল, যেমন: বেঞ্চমার্কিং এবং লক্ষ্য নির্ধারণ, সেই সাথে উত্তম চর্চার মাধ্যমে উদ্ভাবন ।
Sung ও Ashton বলেন তারা ৩৫টি পরিপূরক কার্য-সিস্টেমকে উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য-সিস্টেম বলে থাকেন। এদের মধ্যে তিনটি বড় ক্ষেত্র রয়েছে, সেগুলো হলো:
(i) কার্যে কর্মীদের উচ্চ মাত্রায় সংশ্লিষ্টতা;
(ii) মানব সম্পদ পদ্ধতি; এবং
(iii) পুরস্কার ও অঙ্গীকার চর্চা বা পদ্ধতি ।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, যেখানে কার্যক্ষেত্রে কর্মীদের উচ্চ মাত্রায় অংশগ্রহণ, দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন ও তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করা যায়, তা-ই উচ্চ মাত্রায় কার্যসম্পাদন কার্য পদ্ধতি (HPWS)।

