সি এস আর এর যৌক্তিকতা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সি এস আর এর যৌক্তিকতা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১২ এর অন্তর্গত।

সি এস আর এর যৌক্তিকতা

 

সি এস আর এর যৌক্তিকতা

স্বার্থভোগী সম্পর্কে প্রথম কথা বলেন Freeman। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপকদেরকে বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থরক্ষা করতে হয়, যেমন: শ্রমিক, ক্রেতা, সরবরাহকারী, স্থানীয় কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। এরা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থাপকদেরকে শুধু স্বার্থভোগী বা মালিকদের প্রতি দৃষ্টি দিলেই হবে না, সমাজের প্রতিও দৃষ্টি দিতে হবে। যাই হোক, Porter and Kramar সিএসআর-এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো:

১। নৈতিক আবেদন (Moral Appeal) :

কোম্পানির কর্তব্য হলো ভালো নাগরিক হওয়া। প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ইস্যুগুলো এমনভাবে অর্জন করতে হবে যেন মানুষ ও নৈতিক মূল্যবোধকে সম্মান করা হয়। এছাড়াও, সমাজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতিও সম্মান থাকতে হবে।

২। স্থায়িত্ব (Sustainability) :

সমাজ ও পরিবেশকে দেখাশোনা ও যত্ন করার প্রতি জোর দিতে হবে। এ কারণে বর্তমানের প্রয়োজনটাকে মেটাতে হবে।

৩। কার্যের অনুমোদন ( Licence to Operate) :

ব্যবসায় করার জন্য সরকার, সমাজ ও অন্যান্য স্বার্থ ভোগীদের নিকট থেকে তাৎক্ষণিক অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

 

৪। সুনাম (Reputation) :

সিএসআর কার্যসূচিকে মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ এটি কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধি করে, এর ব্র্যাণ্ডকে শক্তিশালী করে, মনোবলকে চাঙ্গা করে, এমনকি কোম্পানির স্টকের মূল্যও বৃদ্ধি করে ।
Hillman and Keim সিএসআর-এর যৌক্তিকতাকে দুটি দিকের ভিত্তিতে তুলে ধরেন:

(i) ব্যবসায়ের নৈতিকতার দিক অর্থাৎ সঠিক কাজটি করতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যসম্পাদন কী হবে, তা চিন্তা করে লাভ নেই ৷
(ii) কোম্পানি প্রাথমিক উদ্যোক্তা বা স্বার্থভোগীদের সাথে সিএসআর কার্যক্রম যুক্ত করে তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারে ।

Moran and Ghoshal বলেন, সমাজের জন্য যেটি কল্যাণকর, তা অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের জন্য খারাপ হবে না এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য যা কল্যাণকর, তা অবশ্যই সমাজের বিনিময়ে (Cost to society) নয়। এ বাক্যে অবশ্য কিছতা হতাশা আছে। কারণ, এতে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে এখানে ভালো করার মাধ্যমে কল্যাণ করার কাজে জড়িত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। Waddocu & Graves বলেন যে, সিএসআর কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ফলাফল দেখায় ।

সুতরাং বলা যায় যে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য অবশ্যই সিএসআর কর্মসূচি প্রণয়ন ও চালিয়ে যেতে হবে । এতে প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ ও পরিবেশ উভয়েরই উন্নয়ন ঘটে ।

 

সি এস আর এর যৌক্তিকতা

Leave a Comment