আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত মানব সম্পদে বিদেশ থেকে ফেরত। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১৩ এর অন্তর্গত।
কৌশলগত মানব সম্পদে বিদেশ থেকে ফেরত

বিদেশ থেকে ফেরত
আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত দিক হলো কর্মীদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা। এটি সম্ভবত: বিশ্ব মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে অবহেলিত কাজ। কারণ, এ কাজটির জন্য অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা বা পলিসি নির্ধারিত থাকে না। অথচ কর্মীদেরকে বিদেশে প্রেরণের জন্য বিনিয়োগের উপর মুনাফার হারে প্রভাব পড়ে।
খুব কম কোম্পানিই রয়েছে যারা এ বিষয়টি সফলতার সাথে ব্যবস্থা করতে পেরেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই কোনো পরিকল্পনা বা পলিসি থাকে না যে, তাদের ফিরিয়ে এনে কোনো পদে বহাল করা হবে। ফলে তারা নিজে থেকেই চেষ্টা করে নিজ প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে এবং একই পদ বা উচ্চতর পদে চাকরি পেতে।
যদিও তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও মান প্রসারণের জন্য বিদেশে কাজ দিয়ে পাঠানো হয়। তথাপি তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক কর্মীই চাকরিদাতা বা পূর্বের প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসে। তাই প্রতিষ্ঠানের একটি কৌশল প্রতিষ্ঠা করা দরকার যে, তারা বিদেশে অবস্থানকালে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং তা
(i) নিজ দেশে যা ঘটছে তার সাথে সমন্বয় করবে এবং
(ii) নিজ দেশে প্রতিষ্ঠানের কাউকে তার সাথে সংযুক্ত করতে হবে যেন তার অভিজ্ঞতা থেকে সংযুক্ত কর্মী নিজের কার্যসম্পাদন বাড়তে পারে। বিদেশে কাজ দিয়ে প্রেরিত কর্মীদেরকে বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে হবে। তাদেরকে কাজ দিয়ে বিদেশে পাঠাতে প্রতিষ্ঠানকে বেশ কিছু অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে যেন তারা ব্যক্তিগতভাবে ও পেশাগতভাবে নিজেদের আরও উন্নয়ন ঘটাতে পারে।
পরবর্তীকালে তাদেরকে নিজ দেশে এসে নিজের প্রতিষ্ঠানে তা বিনিময় করতে হবে। এটি না করে যদি সংশ্লিষ্ট কর্মী প্রতিযোগী কোনোgs to ar প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে তার অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব কাজে লাগায় তা হলে পুর্বের প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিদেশ ফেরত কর্মীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের নিকট খুবই মূল্যবান। কারণ প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান বিদেশে ব্যবসায় শুরু করতে যাচ্ছে।
সুতরাং বলা যায় যে, বিদেশ থেকে কর্মীদেরকে ফিরিয়ে এনে যেন প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগানো যায়, সে জন্য পলিসি ও কৌশল গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নষ্ট হবে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে করে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে।

