আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানসমূহে কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগ স্থাপনে শ্রমিক সংঘের নেতাদের ভূমিকা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১৩ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানসমূহে কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগ স্থাপনে শ্রমিক সংঘের নেতাদের ভূমিকা

শ্রমিক সংঘ হলো শ্রমিকদের সংঘ যা শ্রমিকদের ভালো-মন্দ দেখা-শুনা করে। এখানে শ্রমিকদের দ্বারা নির্বাচিত নেতা রয়েছে যারা এটিকে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালনা করে থাকে। সুতরাং কোনো প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগ স্থাপনে শ্রমিকসংঘের নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
১। আইনগত পরিবেশ (Legal Environment) :
শ্রমিকসংঘের নেতৃবৃন্দ ব্যবস্থাপনার সাথে কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগ স্থাপনে বিভিন্ন আইনগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এতে আইনের বিভিন্ন দিক উন্মোচিত হবে এবং সঠিকভাবে কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগ স্থাপিত হবে।
২। ন্যায়বিচার (Fair Judgement) :
প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগ স্থাপনের সময় শ্রমিকসংঘের নেতৃবৃন্দ ব্যবস্থাপনাকে পরামর্শ দিতে পারে যে, সকল কর্মীদের জন্য যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় । কেউ যেন অযথা হয়রানির কবলে না পড়ে ।
৩। ন্যূনতম মজুরির হার (Minimum Wage Rate) :
সকলের জন্য ন্যূনতম মজুরির হার নির্ধারণের জন্য শ্রমিক সংঘের নেতারা ব্যবস্থাপনার সাথে কাজ করতে পারে।
৪। শ্রমঘণ্টা (Working Hour) :
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকসংঘের নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে শ্রমঘণ্টা ঠিক করতে পারে; যাতে এটি সকলের জন্য সুবিধাজনক হয়।
৫। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (Health & Safety) :
শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে দেখভাল করার দায়িত্বও শ্রমিকসংঘের নেতাদের উপর।
৬। শিশু শ্রম নিরোধ (Prevent Child Labour) :
প্রতিষ্ঠানে যেন শিশু শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া না হয় সে জন্য ব্যবস্থাপনাকে অনুরোধ করতে পারে ।
৭। আধুনিক প্রযুক্তি (Modern Technology) :
প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন না হলে প্রতিষ্ঠান উন্নতি করতে পারে না। তাই শ্রমিক সংঘের নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য ব্যবস্থাপনাকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠান ও কর্মীবৃন্দ সকলেই উপকৃত হবে।
৮। চাকরির সমান সুযোগ (Equal Employment Opportunity) :
সকলের জন্য চাকরির সমান সুযোগ সৃষ্টিতে শ্রমিক সংঘের নেতৃবৃন্দ ভূমিকা রাখতে পারে।
৯। চাকরির নিরাপত্তা (Job Security) :
প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিরাপত্তার নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে কর্মীরা প্রণোদিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে ব্রতী হবে । শ্রমিক সংঘের নেতারা এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।
১০। কাজের ভালো পরিবেশ (Good Working Environment) :
কাজের অনুকূল পরিবেশ ছাড়া প্রতিষ্ঠান তার কার্য লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। তাই ব্যবস্থাপনাকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। শ্রমিকসংঘকেও এ ব্যাপারে সহায়তা করতে হবে।

