মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

 

কৌশলের সংমানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যজ্ঞা

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

W. B. Werther Keith Davis, The pupose of human resource management is to improve the productive contribution of people to the organization in ways that are strategically, ethically and socially responsible. অর্থাৎ, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো সংগঠনে কর্মীদের মাধ্যমে এমনভাবে উৎপাদনশীল অবদানের উন্নয়ন সাধন করা যাতে কৌশলগতভাবে, নৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলতে পারে ।

নিম্নে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করা হলো:-

মানব সম্পদের ফলপ্রসূ ব্যবহার (Effective use of human resources) :

প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদের পুরোপুরি এবং ফলপ্রসূ ব্যবহার নিশ্চিত করা মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদের কাম্য ব্যবহার করার লক্ষ্যে মানব সম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সুদক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের গতি সচল রাখার জন্য মানব সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। মানব সম্পদের এরূপ কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে হয়।

সঠিক ও কর্মোপযোগী কর্মী নির্বাচন (Selection of right personnel ) :

সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক পদে নিয়োগ করার জন্য কর্মী সংগ্রহ, নির্বাচন এবং নিয়োগ করা মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে মানব সম্পদ। প্রতিষ্ঠানের উৎপাদই, ক্রয়বিক্রয় ও বিপণন প্রভৃতি কার্যাদি দক্ষ কর্মী বাহিনীর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

তাই একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা সঠিক নীতিমালা ও নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে যোগ্য কর্মী নির্বাচন করে থাকে ।

দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা (To make efficient work force):

একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য দক্ষ কর্মী বাহিনীর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আর প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই সঠিক ও যোগ্য কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও প্রণোদনাদান এবং কর্মী সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব। আর এরূপ কার্যাবলির সম্পাদনের জন্য মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা কাজ করে থাকে ।

উত্তম শ্রমব্যবস্থাপনা সম্পর্ক স্থাপন:

প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে উত্তম ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে উত্তম সম্পর্ক থাকলে উত্তম কার্যপরিবেশ গড়ে ওঠে আর এই উত্তম কার্যপরিবেশেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।

কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি (Increase the morale of the workers):

মনোবল হচ্ছে এমন একটি মানসিক দৃঢ়তা যা কর্মীদের কাজে সফলতা অর্জনে সহযোগিতা করে। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করা যাতে তারা প্রতিষ্ঠানের কাজে সফলতা অর্জন করতে পারে ।

কার্যসন্তুষ্টি বিধান (To create job satisfaction) :

প্রতিষ্ঠানে কর্মীর কাজের স্বীকৃতিদান, উচ্চ মনোবল তৈরি, কর্মীর ইতিবাচক মনোভাব তৈরি, উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও প্রণোদনাদান, সহযোগিতা বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে কর্মীর কার্যসন্তুষ্টি আনয়ন করা সম্ভব। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান কাজই হচ্ছে কর্মীদের মধ্যে কার্যসন্তুষ্টি বিধান করা। কার্যসন্তুষ্টি প্রতিষ্ঠানে শ্রম ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস করে এবং প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে সহযোগিতা করে।

 

সমন্বয় সাধন (To maintain coordination) :

প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ব্যক্তি, বিভাগ, উপবিভাগ ও শাখার কাজ ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা। কর্মক্ষেত্রে উত্তম কার্যপরিবেশ আনয়নের জন্য মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ন্যায্য পারিশ্রমিক নীতি নির্ধারণ (Determination of reasonable compensation rules):

ন্যায্য পারিশ্রমিক বা মজুরিনীতি নির্ধারণ করাও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পারিশ্রমিক যদি ন্যায্য না হয় অথবা সমধর্মী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, তবে কর্মীগণ কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা তথা সুষ্ঠু বেতন ও মজুরিকাঠামো ও নীতি প্রণয়ন করা ।

কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ (Welfare activities):

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যথা কর্মীদের স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চিতকরণ, খেলাধুলা ও চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থাকরণ, ক্যান্টিন সুবিধা, অবসর ভাতা, ভবিষ্যৎ তহবিল, ছেলেমেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা, উপাসনালয় তৈরি, উৎসব ভাতার ব্যবস্থাকরণ ইত্যাদি। এসব কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি বৃদ্ধিপায় এবং তারা আরো মনোযোগী হয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে।

জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান (To help the workers improving life style ) :

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান করে। উন্নত জীবনযাপন করা সব মানুষের অধিকার কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন সাধন করা।

Leave a Comment