আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা
Table of Contents
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা
নিম্নে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ আলোচনা করা হলো:
মেধার মূল্যায়ন নীতি (Principle of Evaluation of Merit):
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সকল কার্যবলির ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন জরুরি। বিশেষত কর্মী নিয়োগ, পদায়ন এমনকি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নির্ধারণে কর্মীর মেধার মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
শ্রমের মর্যাদার নীতি (Principle of dignity of Labor):
শ্রমের মর্যাদা নীতি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহের মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগের কাজকে সমান দৃষ্টিতে দেখা উচিত। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে এমন সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত যাতে কোনো কাজকেই ছোট বা হীন দৃষ্টিতে দেখা না হয়। কাজের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতির অর্ন্তভুক্ত।
বিজ্ঞানসম্মত নির্বাচন নীতি (Principle of Scientific Selection):
বিজ্ঞানসম্মত নির্বাচন নীতি হচ্ছে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষ মানব সম্পদ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আর এই দক্ষ মানব সম্পদ বা কর্মী কাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিজ্ঞান সম্মত নির্বাচন নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানসম্মত নির্বাচন নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজের সাথে সামঞ্জশ্যপূর্ণ ও দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হয়।
ন্যায্য পুরষ্কার নীতি (Principle of Fair Reward):
ন্যায্য পুরষ্কার নীতি হচ্ছে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায্য পুরষ্কার নীতি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীকে কাজের প্রতি অধিক আগ্রহী করে তোলে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি করে। ন্যায্য পুরষ্কার বলতে দুটো বিষয় বুঝায়। একটি হলো ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরষ্কার প্রদান এবং অন্যটি হলো কর্মীদের কোনো দুর্ঘটনার কারণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
স্বচ্ছতার নীতি (Principle of Transparency):
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নীতি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কর্মী নির্বাচন থেকে শুরু করে নিয়োগ, পদায়ন, প্রশিক্ষণ বা উন্নয়ন, ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সুষ্ঠ কর্মীনীতি (Principle of Proper Personnel Polity):
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মীনীতি প্রণয়ন মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই নীতির আওতায় কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সুদৃঢ় করা হয় যাতে তাদের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব দূর হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যদি চাকরির নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে কখনই তাদের কার্যসন্তুষ্টি থাকবে না। আর কর্মীদের যদি কার্যসন্তুষ্টির অভাব দেখা দেয় তবে তাদের কাজের গতিশীলতা হ্রাস পায়।
দলীয় উৎসাহ নীতি (Principle of the group spirit) :
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি মৌলিক নীতি হচ্ছে, সংগঠনে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশ্বাস ও সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরি করে দলগত উৎসাহ জাগিয়ে তোলা। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে যদি দলগত উৎসাহ তৈরি না হয় তবে কর্মক্ষেত্রে কর্মোপযোগী পরিবেশ থাকে না এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যক্তিগত উন্নয়ন নীতি (Principle of individual development):
ব্যক্তিগত উন্নয়ন নীতি সম্পর্কে William Spriegal বলেছেন, “মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্ট বিষয়ই হলো সর্বোত্তম ব্যক্তিগত উন্নয়ন,” ব্যক্তিগত উন্নয়ন নীতি সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানবসম্পদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। ব্যক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে কর্মীরা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়।

কল্যাণমুখী ব্যবস্থা নীতি (Principle of welfare activities ) :
কল্যাণমুখী ব্যবস্থা নীতি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহের অন্যতম। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের কল্যানমুখী সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। যেমন- কন্ট্রিবিউটরি তহবিল প্রবর্তন, উৎপাদন ও মুনাফা বোনাস চালুকরণ, কল্যাণ তহবিল চালুকরণ ইত্যাদি।
