মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সূচক বা নির্ধারক

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সূচক বা নির্ধারক

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সূচক বা নির্ধারক

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সূচক বা নির্ধারক

নিম্নে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিরুপণের সূচকগুলো আলোচনা করা হলো:-

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সূচক বা নির্ধারক

চিত্র : মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সূচক

শ্রম ঘূর্ণায়মানতার হার (Rate of labor turnover):

কর্মীদের শ্রম ঘূর্ণায়মানতার হার অথবা প্রতিষ্ঠান ত্যাগের পরিমাণ বিবেচনা করেও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ফলপ্রসূতা পরিমাপ করা যায়। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি এনে শ্রম ঘূর্ণায়মানতার হার হ্রাস করা সম্ভব হয়।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর অনুপাত (Ratio of trained employees):

প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর অনুপাত বিবেচনা করেও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ফলপ্রদতা পরিমাপ করা যায়। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা। যে প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ অধিক হারে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ সে প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিক কার্যকর বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।

কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ (Welfare activities):

কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি এবং কাজের উৎসাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নানা ধরনের কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। যেমন কর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ তহবিল প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসা সুবিধা প্রদান, ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি ।

কর্মীদের প্রেষণা ও কার্যসন্তুষ্টি বৃদ্ধি (Enhance Employee Motivation and Job Satistaction) :

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রেষনাদান ও কার্যসন্তুষ্টির পরিমাণ যাচাই করেও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা পরিমাপ করা যায়। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে প্রেষণামূলক নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে। এর ফলে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীরা স্বত:স্ফূর্তভাবে কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে যা, প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

 

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (Increase Productivity):

কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার বিবেচনা করে সেই প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ফলপ্রদতা নিরুপণ করা যায়। যেসব প্রতিষ্ঠানে অব্যহত উৎপাদন বজায থাকে এবং উৎপাদনশীলতার হার বৃদ্ধি পেতে থাকে সেসব প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা অধিক বলে ধরে নেওয়া হয়। শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অনেকগুলো বিষয় যেমন- কাঁচামাল সরবরাহ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মীদের দক্ষতা ইত্যাদি প্রভাব বিস্তার করে।

দক্ষ কর্মী নির্বাচন (Skilled Employee Selection) :

প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন কার্যকর মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিচায়ক। কর্মী নির্বাচন সঠিক ও সুষ্ঠু না হলে প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। যে প্রতিষ্ঠান যত দক্ষ মানব সম্পদ নির্বাচন করতে পারে সে প্রতিষ্ঠান ততবেশি সফলতা লাভ করতে পারে।

শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক (Labor Management Relationship):

প্রতিষ্ঠানে ভ্রম-ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক নিরূপণ করে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা ও ফলপ্রসূতা পরিমাপ করা যায়। ব্যবস্থাপনার সাথে শ্রমিকদের ভালো এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে কোনো প্রকার ধর্মঘট, কর্মবিরতি, লে-অফ, লক-আউট বা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। ফলে প্রতিষ্ঠানে উত্তম কার্যপরিবেশ বিরাজ করে এবং উৎপাদনের মাত্রা ঠিক থাকে। শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের অবনতি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার পরিচয় দেয়।

কর্মী অনুপস্থিতির হার (Rate of Abse?? teeism):

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অনুপস্থিতির হার বিবেচনা করে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও ফলপ্রসূতা নিরূপণ করা যায়। অসুস্থতা, দূর্ঘটনা, পারিবারিক অসুবিধা এ সকল যৌক্তিক কারণ ছাড়া অযৌক্তিক কারণে কর্মীদের কাজে অনুপস্থিতিরি হার অধিক হলে সে সব প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা অদক্ষ বলে বিবেচিত হয়।

উন্নত প্রযুক্তি ও কলাকৌশলে ব্যবহার (Use of upto date technology & Method):

উন্নত প্রযুক্তি ও কলাকৌশলের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিচিত, দক্ষ এবং অভ্যস্ত করে তোলার জন্য মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে প্রতিষ্ঠান তার মানব সম্পদকে যত উন্নত ও আধুনিক জ্ঞান সম্পন্ন, কলাকৌশল এবং প্রযুক্তিতে পারদর্শী করে তুলতে পারবে, সেই প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা তত বেশি দক্ষ ও ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হবে।

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার সূচক বা নির্ধারক

 

অভিযোগের মাত্রা (Deree of Grievances) :

অভিযোগর মাত্রা থেকে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও ফলপ্রসূতা পরিমাপ করা হয়। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত কার্যপরিবেশ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অভিযোগের মাত্রা কমে যায়। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা অদক্ষ হলে কর্মীদের অভিযোগের মাত্রা বেড়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।

Leave a Comment