আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় উত্তম নির্বাচনের কৌশল বা পন্থার বৈশিষ্ট্য
Table of Contents
উত্তম নির্বাচনের কৌশল বা পন্থার বৈশিষ্ট্য

উত্তম নির্বাচনের কৌশল বা পন্থার বৈশিষ্ট্য
চাকরির জন্য আবেদনকৃত প্রার্থীদের মধ্য থেকে সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে শূন্য বা সৃষ্ট পদের জন্য বাছাই করার প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলা হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে মানব সম্পদ। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও ব্যর্থতা অনেকাংশেই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদের নির্বাচনের ওপর। মেধাবী, যোগ্য দক্ষ ও উপযুক্ত মানব সম্পদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অর্জন করা যায়। নিম্নে উত্তম নির্বাচন পন্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো:-
বৈধতা বা যথার্থতা (Validity):
প্রার্থীকে যথাযথ ভাবে মূল্যায়নের জন্য নির্বাচন পদ্ধতি অবশ্যই বৈধ ও যথার্থ হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনে যথার্থতার প্রয়োগ বলতে বুঝায় কত উত্তমরূপে বা কত নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি নির্বাচন পদ্ধতি প্রার্থীর ভবিষ্যৎ কার্যসম্পাদন সম্পর্কে ভবিষ্যদবাণী করতে পারে। যথার্থতাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক) বিষয়বস্তুভিত্তিক (Content Validity)
খ) গঠনমূলক যথার্থতা (Constructive Validity)
গ) কার্য আচরণের বিচার্যনীতিসম্পর্কিত যথার্থতা (Criterion related validity)
বাস্তবভিত্তিক (Practical):
নির্বাচন পদ্ধতি অবশ্যই বাস্তবভিত্তিক হওয়া আবশ্যক। কাজের প্রকৃতি ও ধরন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, যে পদ বা কার্যের জন্য নির্বাচন করা হবে সে পদের বা কার্যের উপযোগী বাস্তবভিত্তিক নির্বাচন গ্রহণ করা আবশ্যক।
নির্ভরযোগ্যতা (Reliability) :
উত্তম নির্বাচন পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যবহৃত পদ্ধতি যেন নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়।
মিতব্যয়িতা (Economical):
নির্বাচন পদ্ধতিতে যাতে ব্যয়ের আধিক্য না ঘটে সেদিকে নির্বাচনকারীদের লক্ষ্য রাখা উচিত। আর এই জন্য কাজের প্রকৃতি ও আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনা করে যেসব নির্বাচন পদ্ধতি প্রয়োগ অপরিহার্য কেবল সেসব পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্বাচন কার্য সম্পাদন করতে হবে।
দায়িত্ব পালনের সামর্থ্যতা (Ability to discharge responsibility):
উত্তম নির্বাচন পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে নির্বাচিত প্রার্থীর দায়িত্ব পালনের সমর্থতা নিরূপণ করা যায় এরূপ নির্বাচন পদ্ধতি প্রয়োগ করা। সাধারণত বিভিন্ন পরীক্ষা ও অভীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর দায়িত্বপালনের সমর্থতা নিরূপণ করা যায়।
উপযুক্ততা (Suitability):
প্রার্থীর উপযুক্ততা মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাত্মক ও গুণাত্মক তথ্যাদি সংগ্রহ করা আবশ্যক। এরূপ তথ্য সংগ্রহ করে পদ ও কাজ অনুযায়ী সঠিক ও উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচনের জন্য যথার্থ নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করা উত্তম নির্বাচন পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক নিয়োগ (To place right person in the right post ):
উত্তম নির্বাচন পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে নিয়োগ করার জন্য কার্যকর নির্বাচন পদ্ধতি গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচনের জন্য কোনো কোনো নির্বাচন পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত সেদিকে লক্ষ্য রাখা আবশ্যক ।

কার্য বিশ্লেষণের সাথে সামঞ্জস্যতা (Adjustmant with Job Analysis):
কার্য বিশ্লেষণের দুটি উপাদান আছে। একটি হচ্ছে কার্য বর্ণনা এবং অন্যটি হচ্ছে কার্য নির্দিষ্টকরণ। কার্য বর্ণনার মাধ্যমে কাজের বিবরণ, পদের মর্যাদা, দায়িত্ব ও কর্তব্য ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায় আর কার্য নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে কাজ সম্পাদনের জন্য কর্মীর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, দক্ষতা অভিজ্ঞতা ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায়। সুতরাং কাজের বর্ণনা ও কার্য সু-নির্দিষ্টকরণেরসাথে সামঞ্জস্য থাকে এমন নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করা সম্ভব হয়।
