আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সাক্ষাৎকারের শ্রেণিবিভাগ বা পদ্ধতি
Table of Contents
সাক্ষাৎকারের শ্রেণিবিভাগ বা পদ্ধতি

সাক্ষাৎকারের শ্রেণিবিভাগ বা পদ্ধতি
নিম্নে বিভিন্ন প্রকার সাক্ষাতকার বর্ণনা করা হলো-
কাঠামোভিত্তিক সাক্ষাৎকার (Structured Interview) :
কাঠামোভিত্তিক সাক্ষাৎকারকে পরিকল্পিত সাক্ষাৎকারও বলা হয়ে থাকে। কারণ এই সাক্ষাৎকারে পুর্ব পরিকল্পিত নির্দিষ্ট কাঠামোর ভিত্তিতে কতিপয় প্রশ্ন তৈরি কওে রাখা হয় এবং তা সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় প্রার্থীর কাছে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়। এরূপ প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর পুর্বেই নির্দিষ্ট করা থাকে।
কাঠামোভিত্তিক সাক্ষাৎকার মূলত ব্যাপকসংখ্যক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত প্রশ্ন দ্বারা প্রার্থীর যোগ্যতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত মনোভাব, সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি জানার ও বোঝার চেষ্টা করা হয়।
কাঠামোহীন সাক্ষাৎকার (Unstructured Interview) :
কাঠামোহীন সাক্ষাৎকারে পূর্ব থেকে কোনো প্রশ্ন নির্ধারণ করা থাকে না। প্রার্থীদের কোনো ঘটনা বা নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হয়। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থীর নিজের জীবনসম্পর্কিত বর্ণনা বা প্রার্থীর পছন্দমত বিষয় সম্পর্কে বক্তব্য শুনে প্রার্থী সম্পর্কে ধারনা নেওয়া হয়।
এই জাতীয় সাক্ষাৎকারে প্রার্থী স্বাধীনভাবে তার মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং প্রয়োজনে গঠনমূলক বিতর্কেও অংশগ্রহণ করতে পারে। এই ধরনের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থীর সৃজনশীলতা, মনোভাব, যুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায়।
পরিস্থিতিমূলক সাক্ষাৎকার (Situatonal Interview) :
পরিস্থিতিমূলক সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী প্রার্থীকে অতীতের কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে বলে অথবা একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি প্রার্থীর সামনে উপস্থাপন করে সেই পরিস্থিতিতে প্রার্থীর করণীয় সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হয়। প্রার্থীর এ পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া ও করণীয় শুনে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যাচাই করা হয়।
আচরণমূলক সাক্ষাৎকার (Behavioral Interview):
আরচণমূলক সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে প্রকৃতভাবে অতীতে সংঘটিত প্রার্থীর কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে গৃহীত ব্যবস্থা এবং প্রতিক্রিয়ার বর্ণনা শুনে প্রার্থীর আচরণ বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন করা হয়।
চাপমূলক সাক্ষাৎকার (Stress Interview ) :
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে এ পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়। প্রার্থীর ধৈর্য্যগুণ এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে মন-মানসিকতার স্বরূপ নির্ধারণের জন্য চাপমূলক সাক্ষাৎকার গ্রহন করা হয়। এই ধরনের সাক্ষাৎকারে প্রার্থীর জন্য নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা হয় এবং অনবরত উগ্রতামূলক প্রশ্নে জর্জরিত করে তার ধৈর্য্যের স্তর পরীক্ষা করা হয়।
এই ধরনের সাক্ষাৎকারে যেসব প্রার্থী নেতিবাচক পরিবেশে এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে নিজেকে সংযত রাখতে পারে না তারাই অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্যানেল বা বোর্ড সাক্ষাৎকার (Pannel Interview) :
এই পদ্ধতিতে কতিপয় বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি সাক্ষাৎকার বোর্ড গঠন করা হয়। একজন করে প্রার্থী উক্ত বোর্ডের সামনে উপস্থিত হয় এবং প্যানেল ভিত্তিতে বোর্ডের সকল সদস্য উক্ত প্রার্থীকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন এবং প্রার্থীর প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে আলাদা সিটে নম্বর প্রদান করেন। সকল সদস্যের প্রদত্ত নম্বর গড় করে অথবা বোর্ডের সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
একক বা ব্যক্তিগত বনাম দলগত সাক্ষাৎকার (Individual or group interview ):
একক বা ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারদুই ধরনের হতে পারে। একটি হচ্ছে একাধিক সাক্ষাৎকারগ্রহনকারী একজন প্রার্থীকে প্রশ্ন করে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা আর অন্যটি হচ্ছে একজন সাক্ষাৎকারগ্রহনকারী একজন প্রার্থীর সাক্ষাৎকারগ্রহন করা। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হচ্ছে দলগত সাক্ষাৎকার। এই ধরনের সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য বলা হয়।
দলগতভাবে সমস্যা সম্পর্কে আলোচনার জন্য একজন নেতা নির্বাচন করে সমস্যার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রার্থীগনকে আলোচনা করতে বলা হয়। সাক্ষাৎকারগ্রহনকারীরা একটু দুর থেকে দলের সদস্যদের পারস্পারিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, বিষয়ের দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিক সম্পর্কে মূল্যায়ন করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করেন।
এক্সিট সাক্ষাৎকার (Exit Inerview) :
সাক্ষাৎকার সাধারণত গ্রহণ করা হয় কর্মী নিয়োগের সময়। কিন্তু এক্সিট ইন্টারভিউ মূলত গ্রহণ করা হয়ে থাকে কর্মী বিদায়ের সময়। কোনো কর্মী যখন প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো সুযোগ পেয়ে অথবা চাকরিকাল শেষ করে অথবা অন্যকোনো কারণে বিদায় নেয় তখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিদায়ী কর্মীকে নিয়ে বসেন এবং তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। এই সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদায়ী কর্মীর অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাওয়া হয়।

এই সময় কর্মী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকথা এবং প্রতিষ্ঠানের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরেন। বিদায়ী কর্মীর এই সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে থাকে যা প্রতিষ্ঠানকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। এক্সিট ইন্টারভিউ অনেকসময় অনলাইনের মাধ্যমেও গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
