জনশক্তি পরিকল্পনার প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় জনশক্তি পরিকল্পনার প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ

জনশক্তি পরিকল্পনার প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ

 

জনশক্তি পরিকল্পনার প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ

 

জনশক্তি পরিকল্পনার প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ

মানব সম্পদ বা জনশক্তি পরিকল্পনা একটি চলমান পদ্ধতি। এর কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি দক্ষ সংগঠন কাঠামো গড়ে তোলা। একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য কি পরিমাণ ও কি ধরনের কর্মী প্রয়োজন তা শনাক্তকরণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা করা মানব সম্পদ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ-

সাংগঠনিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ (Determiniation of organizational objects) :

মানব সম্পদ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন বিবেচনা করে তা বাস্তবায়নের জন্য কত ধরনের এবং কি পরিমাণ কর্মীর প্রয়োজন তা নির্ধারণ করে যোগ্যতানুযায়ী বিভিন্ন পদে কর্মীদের স্থাপন করতে হয়। মানব সম্পদ পরিকল্পনা বিভাগ পূর্বানুমান ও অভিজ্ঞতার আলোকে সর্বপ্রথম পদক্ষেপে এ কাজটি সম্পাদন করে।

প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নির্ধারণ (Determining the environment of the organization) :

প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়ন উন্নত পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। যে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ ব্যবস্থা যত ভাল ও অনুকূল সে প্রতিষ্ঠান তত দ্রুত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছতে পারে।

পরিবেশগত প্রভাব প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যাবলির ওপর প্রভাব বিস্তার করে সমগ্র প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আগাম পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, বাজার ব্যবস্থা, প্রযুক্তির পরিবর্তন, সংগঠনের শক্তি ও দূর্বলতা ইত্যাদি যাচাই করা আবশ্যক।

জনশক্তির চাহিদা নির্ধারণ (To Determine manpower needs) :

প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো কর্মী বা জনশক্তি। কাজেই একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ জনশক্তি প্রয়োজন হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। অতিরিক্ত জনশক্তি যেমন শ্রম অপচয় ঘটায় তেমনি জনশক্তি চাহিদার তুলনায় কম হলে প্রতিষ্ঠানের কাজের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।

ফলে কাম্য পরিমাণ জনশক্তি নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন, প্রকৃতি ও পরিধি এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন জনশক্তি সংগ্রহ করা হয়।

বর্তমান জনশক্তির পরিমাণ নির্ধারণ (To Determine existing manpower of the organization) :

প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখতে কর্মরত কর্মী খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ ও কার্য অনুযায়ী উচ্চ পর্যায়, মধ্যম পর্যায় ও নিম্ন পর্যায়ের নির্বাহীর সংখ্যা অধস্তন কর্মীর সংখ্যা নিরূপণ করে তালিকা প্রণয়ন করা এবং তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগ্যতা নিরূপণ করা জনশক্তি পরিকল্পনার অন্যতম কাজ।

এজন্য কর্মরত নির্বাহী ও কর্মীসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে একটি পরিপূর্ণ তালিকা সংরক্ষণ করা হয়, যা কর্মীসংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যবহার করা হয়।

 

শ্রমবাজার বিশ্লেষণ (Labour market analysis) :

জনশক্তি পরিকল্পনার এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তির উৎস নির্বাচন করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে পেতে সহজ ও অনুকুল উৎস নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয়।

কর্মীর কার্যত্যাগের সম্ভাবনা জরিপ (Surveying turnover posibilities) :

বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মী তার বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে থাকে। সাধারণত বর্ধিত সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশের আশায় কর্মীরা কর্মস্থল ত্যাগ করে থাকে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও ঘন ঘন কর্মী বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠান সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন কি নীতিনির্ধারণী বিষয় ও গোপনীয় স্পর্শকাতর বিষয় প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান জেনে যায় এবং নতুন কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ দিতে হয়।

অনেক সময় হঠাৎ করে কোন পদশূন্য হয়ে যেতে পারে। এজন্য কর্মী নিয়োগের সময় কর্মীর সামাগ্রিক তথ্য ভালভাবে জেনে সাবধানে কর্মী পছন্দ করে প্রয়োজনের চাইতে কিছু বেশি সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দিতে হয়। অন্যদিকে কর্মীর কর্মত্যাগের মূল কারণ বের করে তা নিরসনের ব্যবস্থা নিলে কর্মীর কর্মত্যাগের প্রবণতা কমে যায়।

জনশক্তি সংগ্রহের কর্মসূচি (Programme of manpower recruitment) :

কর্মীর বর্তমান প্রয়োজন ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রয়োজন নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য বিন্যস্ত পরিকল্পিত কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হয়। এজন্য ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও অন্তর্দৃষ্টির ব্যবহার করে জনশক্তি সংগ্রহের সঠিক ও বাস্তবধর্মী কর্মসূচি হাতে নিতে হয়। এ কর্মসূচি বাস্তবতার আলোকে প্রণীত হলে প্রতিষ্ঠানে কর্মী শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে না বলে প্রতিষ্ঠান থাকে সদা তৎপর ও গতিশীল।

জনশক্তি কর্মসূচির বাস্তবায়ন (Implementation of manpower programme) :

জনশক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জনশক্তিসংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয়সমূহ ছক করে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে হয়। এ ছকে অন্তর্ভূক্ত থাকবে কতিপয় ধারাবাহিক কার্যাবলি যেমন- কর্মীসংগ্রহ ও নির্বাচন, কর্মী স্থাপনা, পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ, কর্মী উন্নয়ন, প্রেষণা ইত্যাদি। নিয়মিত এ ছক প্রস্তুত করে ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা অতি সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় ।

জনশক্তি পরিকল্পনা ব্যয় (Cost of manpower planning) :

জনশক্তি পরিকল্পনার এ পর্যায়ে সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করতে হয়। এ ব্যয় বেশি হলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবার কম হলে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যাবে না। এ জন্য জনশক্তি পরিকল্পনা ব্যয় বাস্তবভিত্তিক ও যুক্তিসংগত হতে হয়।

 

জনশক্তি পরিকল্পনার প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপ

 

নিরীক্ষা ও খাপ খাওয়ানো (Audit & adjustment) :

জনশক্তি পরিকল্পনার সর্বশেষ পর্যায়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করা এবং কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধন করে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

Leave a Comment