মজুরির প্রকারভেদ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মজুরির প্রকারভেদ

মজুরির প্রকারভেদ

 

মজুরির প্রকারভেদ

 

মজুরির প্রকারভেদ

উৎপাদনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক নির্দিষ্ট ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ ও মাসভিত্তিতে শ্রমের বিনিময়ে যে অর্থ উপার্জন করে তাকে মজুরিবলে। মজুরি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। নিম্নে বিভিন্ন প্রকার মজুরি আলোচনা করা হলো :

জীবনধারণের উপযোগী মজুরি (Sustainable wages):

যে পরিমাণ মজুরি পেলে একজন শ্রমিক তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনো রকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারে তাকে জীবনধারন উপযোগী মজুরি বলে। একজন শ্রমিক যেন তার নিজের এবং পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতে পারে এমন হারে মজুরি প্রদান করা উচিত। বিশেষ করে একজন শ্রমিকের মজুরি এমন হওয়া উচিত যেন সে তার নিজের এবং পরিবারের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে পারে।

ন্যূনতম মজুরি (Minimum wages):

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজারের হালচাল, প্রচলিত আইন ইত্যাদি অনুসারে যে পরিমাণ নূন্যতম অর্থ একজন শ্রমিককে মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়, তাকে ন্যূনতম মজুরি বলে। অন্যভাবে বলা যায় যে পরিমান মজুরি দ্বারা একজন শ্রমিক কোনো মতে সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে তাকে নূন্যতম মজুরি বলে।

ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে কোনো দেশের সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ঠিক করার সময় বিভিন্ন দেশের সরকার কর্মীদের পরিবারের ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে মজুরি নির্ধারণ করে থাকে।

 

ন্যায্য মজুরি (Appropriate wages ) :

একজন শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক ও যুক্তিযুক্ত জীবনধারণের জন্য যে পরিমাণ মজুরি প্রয়োজন হয়, তাকে ন্যায্য মজুরিবলে। যে কোনো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা কঠিন; কারণ শ্রমিকদের চাহিদা, প্রত্যাশা, অভাব, নিজস্ব যোগ্যতা ইত্যাদি আলাদা।

আর এগুলো আলাদা হওয়ার কারণে একজন শ্রমিকদের জন্য যে পরিমাণ মজুরি ন্যায্য তা অন্য শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য নাও হতে পারে। তাই ন্যায্য মজুরির ধারণাটা অনেকটাই আপেক্ষিক হিসেবে বিবেচিত।

উন্নত মজুরি (Standard wages):

একজন শ্রমিক যে পরিমাণ মজুরি পেলে স্বাভাবিকভাবে জীবন নির্বাহ করার পরও ভবিষ্যতে স্বাচ্ছন্দ ও নিশ্চয়তার সাথে জীবনধারণ করতে পারবে সে পরিমাণ মজুরিকে উন্নত মজুরি বলে। অন্যভাবে বলা যায়, শ্রমিকরা তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার পর ভবিষ্যতে স্বাচ্ছন্দে ও নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করার জন্য যে পরিমাণ মজুরি পেয়ে থাকে ঐ পরিমাণ মজুরিকে উন্নত মজুরি বলে।

 

মজুরির প্রকারভেদ

 

এই ধরনের মজুরি শ্রমিকদের বর্তমান ও ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বিধান করে। উন্নত মজুরিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে শ্রমিকরা তাদের নিজেদের পরিবার-পরিজনের অভাব পূরণ করার পরও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। উন্নত মজুরিপ্রাপ্তির ফলে শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

Leave a Comment