আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় প্রণোদনামূলক মজুরির প্রদান পরিকল্পনা ধারণা ও সংজ্ঞা
প্রণোদনামূলক মজুরির প্রদান পরিকল্পনা ধারণা ও সংজ্ঞা

প্রণোদনামূলক মজুরির প্রদান পরিকল্পনা ধারণা ও সংজ্ঞা
যে মজুরি পরিকল্পনা-শ্রমিক ও কর্মীদের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা প্রদানে অনুপ্রাণিত করে তাকে প্রণোদনামূলক মজুরি প্রদান পরিকল্পনা বলা হয়। এই ধরনের মজুরি পরিকল্পনায় সর্বনিম্ন মজুরি লাভের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয় এবং সেই সাথে অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি লাভের সুযোগ করে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত প্রাপ্ত মজুরিকে প্রিমিয়াম বা বোনাস বলা হয় ।
প্রণোদনামূলক মজুরি শ্রমিক ও কর্মীদের কাজের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দেয় এবং এর ফলে তারা নিজেদেরকে শুধু প্রতিষ্ঠানের একজন শ্রমিক বা কর্মী হিসেবে না ভেবে প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার হিসেবে ভাবতে শুরু করে।
প্রণোদনামূলক মজুরি পরিকল্পনা সম্পর্কে আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক F.W. Taylor বলেন, “The great revolution that takes place in the mental attitude of the management and the worker as they both take their eyes off the division of the surplus and together turn their attention towards increasing the size of the surplus.”
অর্থাৎ, ব্যবস্থাপনা ও কর্মীর মানসিক যে বিপ্লব সাধিত হয় তা উদ্ধৃত্ত বন্টনের মধ্যে সন্নিবেশিত থাকে এবং উভয়েই উদ্ধৃত্ত বৃদ্ধি লক্ষে নিজেদের আগ্রহ নিয়ে ধাবিত হয়। শ্রমিক কর্মীগণ তাদের পরিশ্রমের বিনিময়ে যে বেতন, মজুরি, কমিশন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পেয়ে থাকে তাকে ক্ষতিপূরণ বলে। একটি প্রতিষ্ঠানের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষতিপূরণ নীতি থাকা জরুরি।
ন্যায্য ও যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ, মনোবল ও আনুগত্য বৃদ্ধি করে, কার্যসম্পাদন ও উৎপাদনশীলতার উন্নয়ন ঘটায়, কাজের অনুপস্থিতি ও অবসন্নতা দূর করে এবং শ্রম ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস করে। মজুরি কাঠামো তৈরি, সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন, মজুরি জরিপ, মুনাফার অংশীদারিত্ব প্রদান, মজুরি পরিবর্তন প্রভৃতি কাজ ক্ষতিপূরণ প্রশাসনের আওতাভুক্ত ।

