আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কীভাবে প্রণোদনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়
Table of Contents
কীভাবে প্রণোদনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়

কীভাবে প্রণোদনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়
প্রনোদনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপায়সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো:
প্রণোদনা পরিকল্পনা কর্মীদের কাছে সহজবোধ্য করা (To make the incentive plan easy for employees to understand):
কর্মীদের প্রণোদনামূলক মজুরি প্রদান পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যেন কর্মীরা সহজে তা বুঝতে পারে এবং হিসাব করতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে কর্মীদের প্রণোদনামূলক মজুরি প্রদান পদ্ধতি সরল ও সহজবোধ্য হতে হবে যাতে কর্মীরা তাদের মজুরি ও বেতন তারা নিজেরাই হিসাব করতে পারে।
প্রণোদনার স্থায়িত্ব রক্ষা (Stable incentive plan ):
প্রণোদনার স্থায়িত্ব রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্টা থাকা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রণোদনার প্রদানের হার কমালে তা কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একবার প্রণোদনা চালু করলে তার হার কমানো ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
কর্মীদের সমর্থন (Employee support):
প্রণোদনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কর্মীদের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন খুবই জরুরি। পুরষ্কারদানে কর্মীদের যে কোনো বাধা প্রণোদনা পরিকল্পনা বিনষ্ট করতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি সফলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ (Emphasis on long term and short term success):
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সফলতা লাভের ওপর প্রণোদনামূলক পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। দক্ষতা বা বিশেষ পারদর্শীতা প্রদর্শনের জন্য যেমন প্রণোদনামূলক পুরষ্কারের ব্যবস্থা করা উচিত ঠিক তেমনি দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা লাভের জন্য পুরষ্কারের ব্যবস্থা রাখা উচিত। এই প্রণোদনামূলক পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকলে কর্মীরা দক্ষতা অর্জনে উৎসাহী হয়ে ওঠে।
প্রচেষ্টা ও পুরষ্কারের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া (Make sure that efforts and rewards are directly related):
প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি বা নির্দিষ্ট মান অর্জনের ওপর ভিত্তি করে প্রণোদনা পরিকল্পনা আওতায় কর্মীদের পুরষ্কারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদির পাশাপাশি প্রণোদনামূলক ক্ষতিপূরণ বা পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকলে তা নির্দিষ্ট মান অনুসারে কর্মীদের প্রকৃত ও প্রয়োজনীয় কার্যসম্পাদন করতে অনুপ্রাণিত করবে।
কার্যের মান প্রতিষ্ঠা ( Set effective standard of work):
কর্মীদের কর্মপ্রচেষ্টা বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ও গ্রহণযোগ্য মান প্রতিষ্ঠাকরণ। আর কর্মীরা এরূপ লক্ষ্য ও মান অর্জন করতে পারলে তার ভিত্তিতে কর্মীদের প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
নিরপেক্ষ ও সততার ভিত্তিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থার ব্যবহার (Use good measurment system):
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন ব্যবস্থা সঠিক ও নিরপেক্ষ হওয়া আবশ্যক। কর্মীদের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন ন্যায্য, স্পষ্ট ও সঠিক হলে কার্যকর প্রণোদনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় ।
প্রতিষ্ঠানের অনুসৃত পদ্ধতি ও অনুশীলনের সাথে সংগতি রেখে প্রণোদনামূলক পরিকল্পনা গ্রহণ:
প্রতিষ্ঠানের অনুসৃত পদ্ধতি ও অনুশীলনের সাথে সংগতি রেখে প্রণোদনামূলক পরিকল্পনা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত ওভারটাইম, কমিশন ইত্যাদি প্রদানের রীতি পদ্ধতির সাথে প্রণোদনা পরিকল্পনার সামঞ্জস্য বিধান করা আবশ্যক।

উদার ও প্রতিশ্রুতিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রবর্তন (Benevolent and commitment oriented approach):
প্রণোদনা পরিকল্পনা প্রণয়নে উদার ও প্রতিশ্রুতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত। কারণ উদার এবং প্রতিশ্রুতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি কর্মীদের প্রতিশ্রুতি উন্নয়নে এবং কর্মীদের কার্যসম্পাদনে অংশীদারিত্বের অনুভূতির জাগাতে ভূমিকা রাখে ।
