আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
Table of Contents
ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
নিম্নে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো:
পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো (Adoptation with changes) :
আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে প্রতিনিয়ত ব্যবসায়িক নানা পরিবর্তন সংঘটিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে একজন ব্যবস্থাপককে আধুনিক প্রযুক্তি, কলাকৌশল ও পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে এই জ্ঞান অর্জন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
নতুন কার্যপদ্ধতি সৃষ্টি (Indtroduce new method) :
বর্তমান ব্যবসায়ের কারিগরি, প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশগত (অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক) উপাদানের পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন কার্যপদ্ধতি প্রবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন। ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপকদের কারিগরি, প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশগত জ্ঞান ও দক্ষতার বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
দক্ষতার উন্নয়ন (Develop efficiency):
ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ফলে ব্যবস্থাপকদের কাজে পারদর্শিতা আসে এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মধ্যেমে আধুনিক প্রযুক্তি, কলাকৌশল এবং কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান দান করে ব্যবস্থাপকদের কাজে দক্ষ ও পারদর্শী করে তোলা হয় ।
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন (To achieve organizational objective) :
ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সকল ব্যবস্থাপক বা নির্বাহীদের জ্ঞান, দক্ষতা, কর্মপদ্ধতি, মনোবল এবং কার্যসম্পাদনে মানের উন্নয়ন ঘটে। আর এর ফলেই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সুনিশ্চিত হয়।
বহুমুখী জ্ঞান (Versatility):
ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ব্যবস্থাপকদের শুধু কার্যসম্পর্কিত জ্ঞানই বৃদ্ধি করে তা নয় বরং বহুমুখী জ্ঞানদানের মাধ্যমে ব্যবস্থাপকদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্প্রসারিত করে।
সেকেলে ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্তিদান (Release from traditional thinking):
ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপকদের আধুনিক প্রযুক্তি, কলাকৌশল, কর্মপদ্ধতি এবং সর্বাধুনিক তত্ত্ব ও তথ্যাদি অবহিত করার কারণে ব্যবস্থাপকগণ সেকেলে এবং গতানুগতিক ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আর এর ফলেই ব্যবস্থাপকগণ প্রতিষ্ঠানে সঠিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
কার্যসন্তুষ্টি অর্জন (Attain job satisfaction):
ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপকগণ কার্যপারদর্শিতা অর্জন করে। আর এর ফলে কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। আর এটাই কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সহজতর করে।
দক্ষ নির্বাহী গড়ে তোলা (Develop talented executive ) :
ব্যবসায় সম্প্রসারণের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানে দক্ষ নির্বাহীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে দক্ষ নির্বাহীর মজুত গড়ে তোলা যায় এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ভবিষ্যতে প্রয়োজনমত দক্ষ নির্বাহীর সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
গবেষণা ও উন্নয়ন (Research and development) :
ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে নিরন্তর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। এর ফলে নতুন নতুন রীতি, কার্যপদ্ধতি ও প্রক্রিয়া উদ্ভাবনের মাধ্যমে কার্যক্ষেত্রকে আরো গতিশীল ও বেগবান করা সম্ভব হয় ।
সম্পদের সদ্ব্যবহার (Proper utilization of resources ) :
ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পদের সদ্ব্যবহার করা সম্ভব। ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপকগণ আধুনিক প্রযুক্তি, কর্মকৌশল এবং কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের ফলে প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, উপকরণ ও কাঁচামালের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। এর ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং ব্যয় হ্রাস পায়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ শিল্পব্যবস্থাপনা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা (Establishment of cordial labor management relationship):
ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটায় এবং উভয়ের দূরত্ব কমিয়ে এনে সুমধুর শিল্প সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
