আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন সমস্যার সমাধান
Table of Contents
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন সমস্যার সমাধান

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন সমস্যার সমাধান
বাংলাদেশে কার্যসম্পাদন মূল্যায়নে ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলো অতি প্রাচীন। তাই এই দেশের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। এইসব সমস্যা দূর করে কার্যসম্পাদনের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য নিম্নে বর্ণিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারে:-
আদর্শ কার্যসম্পাদন মান প্রতিষ্ঠাকরণ (Establishment of standard scale) :
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন কার্যক্রম বাংলাদেশ সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য সু-স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত বর্ণনামূলক পুর্ননির্ধারিত আদর্শ কার্যসম্পাদন মান প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এর ফলে মূল্যায়নের সময় মূল্যায়নকারীর কঠোরতা, উদারতা এবং যে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব দূর করা সম্ভব হবে।
স্বজনপ্রীতি পরিহার (Avoiding nepotism):
সফল ও কার্যকর কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অন্যতম একটি প্রতিবদ্ধকতা হচ্ছে স্বজনপ্রীতি। তাই স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব পরিহার করে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন কাজকে সফল ও কার্যকরি করতে হবে।
মূল্যায়নকারীদের প্রশিক্ষণ (Training for appraisors):
কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকারীদের মূল্যায়ন করার কলাকৌশল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এর ফলে সঠিক মূল্যায়নের পথ প্রশস্ত হবে।
একাধিকবার মূল্যায়ন (To evaluate several times) :
বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেশকিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বছরে একবার কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বছরে একবার মূল্যায়ন না করে অন্তবর্তী সময়েও করা যেতে পারে এবং একাধিকবারের মূল্যায়ন একত্র করে পুরো বছরের মূল্যায়ন করা যেতে পারে। এর ফলে মূল্যায়নকারীরা অধস্তনদের সাম্প্রতিক আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হবে না ।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন (Developmet ofcommunication system):
কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকারী এবং অধস্তনদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন খুবই জরুরি। কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকে ফলপ্রসূ করার জন্য মূল্যায়নকারী ও অধীনস্থদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করতে হবে।
স্কেলের বিবরণ (Description of scale ) :
মূল্যায়ন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। আর এটা থাকলে মূল্যায়ন কার্য সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হবে ।
সঠিক তথ্য সংগ্রহ (Collect authentic information):
বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীদের ব্যক্তিগত, চারিত্রিক ও কার্যসম্পাদনসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যায় না। আর এই ত্রুটিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কারণে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন কাজও সঠিক হয় না। তাই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকারীদের কর্মী সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রভাব (Impact on internal & external affairs):
বাংলাদেশের কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকারীরা অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গ বা শ্রমিক সংঘের প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এর ফলে মূল্যায়নকারীরা ঝামেলা ও দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য অধস্তনদের খারাপ দিকগুলো বা ত্রুটিযুক্ত দিকগুলো তুলে না ধরে গোপন করে যান। কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করতে হলে মূল্যায়নকারীদের এই ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে ।
