আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের কৌশলগত ভূমিকা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের কৌশলগত ভূমিকা

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রধান কাজ হলো মালিক ও কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা। তিনি কর্মক্ষেত্রের কৌশল নির্ধারণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্ম প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেন। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপককে মানব সম্পদের প্রতিটি ক্ষেত্রের দক্ষতা অবগত থাকতে হয়। নিচে একজন মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের কৌশলগত ভূমিকা তুলে ধরা হলো :-
১) কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Workplace Safety and Risk Management) :
কর্মক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বিপদ-আপদ বা কর্মে বাধা সৃষ্টি না হয় সে দিক খেয়াল রাখতে হবে। কর্মক্ষেত্রকে বিপদমুক্ত রাখা প্রত্যেক মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের অগ্রণী কৌশলগত ভূমিকা; অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রকে এমনভাবে নিরাপদ রাখতে হবে, যেন কাজ করতে গিয়ে কেউ দুর্ঘটনায় পতিত না হয় এবং হতাহত না হয়।
এতে প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবে। এতে কর্মীদেরকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। ফলে প্রতিষ্ঠানের অনেক অর্থ সাশ্রয় হবে। জটিল যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য কর্মীদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলে দুর্ঘটনা কমবে এবং প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় থাকবে।
২) বেতন ও পারিশ্রমিক এবং সুবিধাদি (Compensation and Benefits) :
একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও মর্যাদার অনেকাংশে নির্ভর করে কর্মীদের জন্য গঠিত বেতন ও পারিশ্রমিক কাঠামোর উপর। অধিকন্তু, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্মীদের বেতন স্কেল ও সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা কমীদের কর্ম সন্তুষ্টি ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মেধাবী কর্মী নিয়োগের উপর প্রভাব ফেলে।
কর্মীদের জন্য বেতন ও পারিশ্রমিক এবং সুবিধা প্রদান কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে কার্য মূল্যায়ন, শ্রম বাজারের পরিস্থিতি, শ্রমশক্তির স্বল্পতা এবং বাজেটের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি উপাদানগুলো বিবেচনা করতে হবে।
৩) কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন (Employee Training and Development) :
কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের যে কৌশলগত ভূমিকা তা কোম্পানির ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়াও আনুপূর্ব পরিকল্পনা (Succession Plan), পদোন্নতি, কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন প্রভৃতি বিষয়ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের ভূমিকার মধ্যে পড়ে। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন নিঃসন্দেহে কর্মীদের প্রণোদিত করে এবং তারা প্রতিষ্ঠানে থেকে যায় ৷
৪) কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন (Recruitment and Selection) :
কর্মী সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন কাজটি কর্মীদের সাথে সম্পর্কিত। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের কৌশলগত ভূমিকা হলো- কর্মীদের সম্পর্ক এবং কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচনের উপাদানের মধ্যে সমন্বয় করা বা যুক্ত করা। কর্মীদেরকে কাজের স্বীকৃতি প্রদান, পদোন্নতির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিয়োগ কর্মীদেরকে প্রণোদিত করার উত্তম পন্থা ।
৫) মালিক-কর্মী সম্পর্ক (Employer-Employee Relation) :
অনেক মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক বিশ্বাস করেন যে, মালিক-কর্মী সম্পর্ক জোরদার করা হলে কর্মী সম্পর্কে মানব সম্পদ বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিন্ত করে। তা সত্ত্বেও, কর্মী সম্পর্ক প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্যই একটি বড় ব্যাপার। যেমন- বেতন, সুবিধাদি, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও কর্মী উন্নয়ন প্রভৃতি। সুতরাং প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মী সম্পর্ক ধরে রাখাই হলো মানব সম্পদ কৌশলের মূল উপাদান।
কর্মস্থল পরিবীক্ষণ বা পরিদর্শন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ চাকরি নীতিমালা প্রয়োগ- এ দুটি বিষয় কর্মী সম্পর্ক কর্মসূচির মূল উপাদান। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের কৌশলগত ভূমিকা হলো: কার্যক্ষেত্রের বিভিন্ন ইস্যু কিভাবে চিহ্নিত ও সমাধান করা যায় এবং কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য বিভিন্ন ধরনের আবেদন আকর্ষন করা যায় ।

