আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১ এর অন্তর্গত।
কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া কতিপয় দিক নিয়ে গঠিত। এ সকল দিক নিয়েই প্রতিষ্ঠানের সমগ্র কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকগণের পক্ষে সমগ্র কার্য কার্যসম্পাদন করা যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এ দিকগুলো হলো:
১) কর্পোরেট স্ট্রাটেজী,
২) বাহ্যিক পরিবেশ,
৩) অভ্যন্তরীণ পরিবেশ,
৪) ব্যবসায় কৌশল,
৫) মানব সম্পদ কৌশল,
৬) কর্মীদেরকে আলাদাকরণ,
৭) কর্মীদের জন্য আইন ও বিধি,
৮) মানব সম্পদ তথ্য ব্যবস্থা,
৯) কর্মীসংস্থান,
১০) প্রশিক্ষণ,
১১) কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা,
১২) বেতন ও পারিশ্রমিক
১৩) শ্রমিক সম্পর্ক ।
নিচে চিত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি দেখানো ও বর্ণনা করা হলো :

চিত্রঃ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্ৰক্ৰিয়া
১। কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজি (Corporate Strategy) : প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কর্ম সম্পাদনের জন্য যে সকল কৌশল প্রণয়ন করা হয় তাকে কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজি বলে। এ কৌশল উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃক প্রণীত হয়। এ কৌশল প্রণয়নে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশগত শক্তিসমূহ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
২। বাহ্যিক পরিবেশ (External Environment) :বাহ্যিক পরিবেশের উপাদানসমূহের মধ্যে অনেকগুলোই প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কৌশল ও ব্যবসায় কৌশল নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে। তবে এ কৌশল নির্ধারণে প্রতিযোগিতা ও সরকারি বিধি-বিধান বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে ।
৩। অভ্যন্তরীণ পরিবেশ (Internal Environment) : প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উপাদানসমূহ কর্পোরেট পর্যায়ের কৌশল ও ব্যবসায় কৌশল প্রণয়ন উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাবিত করে থাকে।
8। ব্যবসায় কৌশল (Business Strategy) : কর্পোরেট পর্যায়ের কৌশলসমূহ বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায় পর্যায়ের কৌশলসমূহ প্রণয়ন করা হয়। কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি প্রতিটি ব্যবসায় ইউনিটের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উদ্দেশ্যের আলোকে প্রণয়ন করা হয়।
৫৷ মানব সম্পদ কৌশল (HR Strategy) : কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি অন্যতম কাজ হলো একটিo Setti সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য মানবসম্পদ কৌশল নির্ধারণ করা, যেখানে মানব সম্পদ পরিকল্পনা ও কার্য নকশার দিক নির্দেশনা থাকবে।
৬। কর্মীদেরকে আলাদাকরণ (Employee Separation) : এটি হলো প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ইস্যু। এতে এমন দিক নির্দেশনা থাকে, যেন কর্মীরা সাবলীলভাবে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে কোনো রকম বাধার সৃষ্টি হয় না এবং পেশাগত সম্পর্ক অটুট থাকে ।
৭। কর্মীদের জন্য আইন ও বিধি (Law Regulating Employee ) : অনেক সময় আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্মীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন স্কেল প্রভৃতির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে। এতে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজে বাধার সৃষ্টি হয়।
৮। মানব সম্পদ তথ্য ব্যবস্থা (HR Information System) : একটি ফলপ্রসূ মানব সম্পদ কৌশল নির্ধারণের জন্য কিছু যৌক্তিক তথ্যের প্রয়োজন হয়। একটি শক্তিশালী মানব সম্পদ তথ্য ব্যবস্থার সাহায্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীগণ একটি সুন্দর মানব সম্পদ কৌশল প্রণয়ন করতে পারে এবং অন্যান্য মানব সম্পদ কার্যাবলি সম্পন্ন করতে পারে।
৯। কর্মিসংস্থান (Staffing) : কর্মিসংস্থান হলো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শূন্য ও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য শূন্য পদসমূহে প্রয়োজনীয় মানব সম্পদ অনুসন্ধানপূর্বক নিয়োগ দেওয়া। তবে দক্ষকর্মী নিয়োগ দিতে হবে যেন ফলপ্রসূ স্টাফিং কর্মসূচি বজায় থাকে ।
১০। প্রশিক্ষণ (Training) : কর্মী নিয়োগদানের পর তাদের যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম কাজ। প্রশিক্ষণ হলো এমন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা বাড়ানো হয় এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনের দিকে তাদের মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করা যায়।
১১। কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা (Performance Management) : কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত কার্য পরিমাপের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও সঠিকভাবে প্রণয়ন করা যায়। কর্মীর প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিক উভয় কর্মসম্পাদন পরিমাপ করা হয়।
১২। বেতন ও পারিশ্রমিক (Compensation) : কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার আরেকটি জটিল কাজ হলো- সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি বেতন ও পারিশ্রমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এটি এমন হওয়া প্রয়োজন, যেন প্রতিষ্ঠানের কর্মী, মালিক ট্রেড ইউনিয়ন নেতাসহ সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়।
১৩। শ্রমিক সম্পর্ক (Labour Relation) : প্রতিষ্ঠান সাবলীল ও বাধাহীনভাবে চলার জন্য সুন্দর শ্রমিক-কর্মী সম্পর্ক বজায় থাকা একান্ত আবশ্যক। শ্রমিক-কর্মীদের সাথে ব্যবস্থাপনার সুসম্পর্কই পারে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে অর্জন করতে। এ কারণে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা সবসময় শ্রমিক-কর্মী ব্যবস্থাপনার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চেষ্টা করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মডেলটি অত্যন্ত উপযোগী একটি মডেল। তবে এতে বিশ্বায়নের উপাদানগুলো যুক্ত করা প্রয়োজন। শুধু অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উপাদান বিবেচনায় ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।
