কৌশলের বৈশিষ্ট্য

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ” কৌশলের বৈশিষ্ট্য “। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ২ এর অন্তর্গত।

কৌশলের বৈশিষ্ট্য।

 

কৌশলের বৈশিষ্ট্য।

 

স্ট্র্যাটেজি হলো প্রাতিষ্ঠানিক নীতি-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের যে সম্ভাব্য ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে তা মোকাবিলার জন্য পূর্ব নির্ধারিত নীতি বা কৌশল। এরূপ নীতির যে সব বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১. সহযোগী পরিকল্পনা:

স্ট্র্যাটেজি হলো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করার কৌশল । মূল কোনো পরিকল্পনা বা নীতি বাস্তবায়নের জন্যই স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করা হয়। তাই এটি কোনো ভিন্নতর বিষয় নয় বরং মূল পরিকল্পনার সহযোগী ।

 

২. পরিস্থিতি নির্ভরতা:

স্ট্র্যাটেজি হলো সব সময়ই পরিস্থিতিনির্ভর। সম্ভাব্য যে সমস্যা মোকাবিলার জন্য এটি প্রণীত হয়েছে বাস্তব অবস্থা তা থেকে কিছুটা ভিন্নতর হতে পারে। তাই পূর্ব নির্ধারিত স্ট্র্যাটেজি হুবহু প্রয়োগ না করে তাকে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োগ করতে হয় ।

 

৩. বাস্তবায়নে সতর্কতা:

স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নে খুব বেশি সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন পড়ে। মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণের পর উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের জন্য স্ট্র্যাটেজি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। যথাসময়ে যথাযথ স্ট্র্যাটেজি প্রয়োগ ছাড়া কার্যকর ফল লাভ করা সম্ভব হয় না।

 

৪. বিকল্প নির্ধারণ:

কার্যকর স্ট্র্যাটেজি প্রয়োগে সব সময়ই বিকল্প নিরূপণের প্রয়োজন পড়ে। মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্ভুত পরিস্থিতি ভিন্নতর হতে পারে। তাই কোন্ ধরনের পরিস্থিতিতে কোন্ স্ট্র্যাটেজি ব্যবহৃত হবে তা পূর্ব হতেই ind নিরূপণ করে রাখতে হয় ।

 

৫. বৈচিত্রতা:

স্ট্র্যাটেজির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিচিত্র ধরনের হয়ে থাকে। কোনো কোনো স্ট্র্যাটেজি আক্রমণমুখী আবার কোনো কোনো স্ট্র্যাটেজি অত্যন্ত ধীরগতি সম্পন্ন। কখনও এরূপ স্ট্র্যাটেজি প্রতিরক্ষামূলক আবার কখনও তা নীতি বিরোধী মনে হতে পারে ।

 

৬. পরিবর্তনশীলতা ও আকস্মিকতা:

পরিবর্তনশীলতা স্ট্র্যাটেজির আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। স্ট্র্যাটেজি প্রয়োগ যেহেতু পরিস্থিতি-নির্ভর তাই সর্বশেষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া স্ট্র্যাটেজি আকস্মিকভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যাতে অন্যদের বুঝে উঠার পূর্বেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

 

৭. প্রতি আক্রমণের সম্ভাবনা:

স্ট্র্যাটেজি এমন একটি পরিকল্পনা যার মধ্যে অন্যকে পরাভূত করার বা বিজয় অর্জনের বিশেষ উদ্দেশ্য কাজ করে। তাই কোন্ প্রতিষ্ঠান কী স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করছে তা সতর্কতার সাথে প্রতিপক্ষ বুঝতে চেষ্টা

করে এবং সে অনুযায়ী তারাও স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে বিজয় অর্জনের চেষ্টা চালায়। তাই সব সময়ই এক্ষেত্রে প্রতি আক্রমণের একটা সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যায়।

পরিশেষে বলা যায়, যে স্ট্র্যাটেজি এমন এক ধরনের পরিকল্পনা বা নীতি-কৌশল যা বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্তৃক তৈরি করা হয়। সতর্কতা ও গোপনীয়তা এর সফলতা অর্জনেindo অতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়ে থাকে। তাই সাধারণ পরিকল্পনা বা নীতি-কৌশল হতে এর স্বকীয়তা লক্ষ্য ায়তা লক্ষ্য করা যায়।

 

কৌশলের বৈশিষ্ট্য।

Leave a Comment