আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশল সফল বাস্তবায়নে সুপারিশ । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ২ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
কৌশল সফল বাস্তবায়নে সুপারিশ

সুষ্ঠুভাবে কৌশল বাস্তবায়নে বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করেছেন। এই ব্যাপারে হ্যারল্ড কুঞ্জ ও আইরিখ এর প্রদত্ত সুপারিশমালা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। বাংলাদেশের পরিস্থিতির আলোকে নিম্নে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো:
১। সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকদের অবহিতকরণ:
কৌশলের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শীর্ষ নির্বাহী কর্তৃক প্রণীত কৌশল সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকদের জানানো প্রয়োজন। কৌশল জানানোর সময় অবশ্যই লক্ষ্য করা উচিত যেন কৌশলসমূহ তাদের নিকট বোধগম্য হয় ।
২। পরিকল্পনা ভিত্তিসমূহের উন্নয়ন ও অবহিতকরণ:
কৌশল বাস্তবায়নে যে সমস্ত অনুমান বা পূর্বানুমান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে তাদের সনাক্ত করা আবশ্যক। সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকদেরকে বিভিন্ন পূর্বানুমান সম্বন্ধে অবহিত করা প্রয়োজন। তা না হলে কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুমান বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক প্রভাবিত হতে পারে। এতে বিভিন্ন ধরনের অসমন্বিত রৈখিক পরিকল্পনার উদ্ভব হতে পারে।
৩। বাস্তব পরিকল্পনায় উদ্দেশ্য ও কৌশলের অভিব্যক্তি থাকা বাঞ্ছনীয়:
বাস্তব পরিকল্পনা অবশ্যই উদ্দেশ্য ও কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানপূর্বক প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়। কৌশলের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে পরিকল্পনাকে সহায়তা করা প্রয়োজন । বাস্তব পরিকল্পনা কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতি বিধানপূর্বক কৌশল প্রণয়ন করা না হলে কৌশলের বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।
8। পরিস্থিতি-নির্ভর কৌশল ও কর্মসূচি প্রস্তুতকরণ:
প্রতিকূল অবস্থা বা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের কৌশল মোকাবিলায় কৌশল প্রস্তুত করা হয়। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের নীতি নানাবিধ বিষয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে পূর্বানুমানকৃত প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের আচরণ ও অনুমিত আচরণের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান দেখা দিতে পারে।
সে জন্য কৌশল প্রস্তুত ও বাস্তবায়নকালে অনুমিত বিভিন্ন অবস্থা মোকাবিলায় বিকল্প কৌশল প্রস্তুত করা বাঞ্ছনীয় অবস্থাভিত্তিক বিকল্প কৌশল প্রস্তুত করা না থাকলে পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি বিধানের জন্য অতি দ্রুত কৌশল বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।
৫৷ কৌশলসমূহের পর্যালোচনা:
অবস্থার পরিবর্তন সাপেক্ষে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রণীত কৌশলের পরিবর্তন সাধনের প্রয়োজন হয়। তাই কৌশল বাস্তবায়নের সময় তার কার্যকারিতা সম্বন্ধে নিয়মিত পর্যালোচনা করা বাঞ্ছনীয়। সাধারণত এই জাতীয় পর্যালোচনা বৎসরে একবার বা একাধিকবার করা উচিত।
৬। উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুতকরণ:
অন্যান্য নীতির ন্যায় উপযুক্ত কাঠামো ছাড়া কৌশলের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। সেই জন্য কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুত করা বাঞ্ছনীয়। এতে ব্যবস্থাপক কী মাত্রায় কৌশল বাস্তবায়নে অবদান রাখবে সে সম্বন্ধে ভুল বুঝাবুঝির আশংকা হ্রাস পায়।
৭। সহায়ক সাংগঠনিক পরিবেশ প্রস্তুতকরণ:
বর্তমানে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে সমস্ত সমস্যা দেখা দেয় ভবিষ্যতে কৌশল বাস্তবায়নে ঐ সমস্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ব্যবস্থাপকের মধ্যে এই জাতীয় সমস্যা সমাধান না করার প্রবণতা বিদ্যমান থাকে। সে জন্য এই জাতীয় প্রবণতা রোধকল্পে প্রয়োজনীয় কৌশল প্রস্তুত করা বাঞ্ছনীয় ।
৮। পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ অব্যাহত রাখা:
কৌশল ও পরিকল্পনা বহুবিধ অংশ ও উপাংশের সমন্বয়ে গঠিত। সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক প্রতিটি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ না করলে কৌশল ব্যর্থ হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। এই প্রক্রিয়া বিরক্তিকর ও অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও প্রতিটি অংশ ও উপাংশের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের মাত্রা অব্যাহত রাখা বাঞ্ছনীয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিতকরণের প্রক্রিয়া সচল থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, কৌশলের সফল বাস্তবায়নের জন্য উপরোক্ত সুপারিশগুলো অনুসরণ করা আবশ্যক।
