কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় EEOC এর অধীনে কেন্দ্রীয় আইনসমূহের প্রয়োগ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় EEOC এর অধীনে কেন্দ্রীয় আইনসমূহের প্রয়োগ । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৪ এর অন্তর্গত।

EEOC এর অধীনে কেন্দ্রীয় আইনসমূহের প্রয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রণীত শ্রম আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের জন্য EEOC গঠন করা হয়েছে। যে কোনো ব্যক্তি যদি মনে করে যে, কর্মক্ষেত্রে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বা “Title VII”- ভঙ্গ করা হয়েছে, তা হলে EEOC-এর নিকট লিখিত অভিযোগ করতে পারে এবং এ অবস্থার সমাধান দাবি করতে পারে।

বৈষম্য আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নথি পেশ করতে হয়। এটি EEOC অফিসে বা স্টেট বা স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধির নিকট নথি পেশ করা যায়। EEOC অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে। অভিযোগের সত্যতা না পেলে এটি এখানেই শেষ করে দেওয়া হয়।

আর সত্যতা পাওয়া গেলে মালিককে নোটিশ দেওয়া হয় অভিযোগ নিরসনের জন্য। EEOC এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর সাথে কথাবার্তা বলে নির্ধারণ করে থাকে যে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য কী করণীয়। অতঃপর মালিকের সাথে সমন্বয় চুক্তি করে থাকে। যদি মালিক EEOC কে প্রত্যাখ্যান করে তাহলে EEOCমালিকের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারে। এ প্রক্রিয়াটি নিচে ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো

 

EEOC এর অধীনে কেন্দ্রীয় আইনসমূহের প্রয়োগ

চিত্র : EEOC কর্তৃক অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া

 

বয়স, জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম, জাতীয়তা বা অক্ষমতা প্রভৃতি অনুসারে কর্মীরা যখন বিবেচিত হয়, তখনই বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। অবশ্য বৈষম্যের প্রভাব নগন্য। প্রত্যেকের জন্য সমান মান বা আচরণ প্রয়োগ করা হলেও দেখা যায় যে, বিভিন্ন দলের কার্যসম্পাদনের ফলাফল বিভিন্ন রকমের ।

অভিযোগকারী যদি বৈষম্যের প্রভাব উপস্থাপন করতে পারে, তা হলে কর্মীরা যে বৈষম্যের শিকার হয়নি, তা প্রমাণের দায়িত্ব মালিকের। চার উপায়ে মালিক তা প্রমাণ করতে পারে :

 

প্রথমত :

চাকরি সম্পর্কিত কারণ দেখাতে পারে। এ ক্ষেত্রে মালিক কর্মী নিয়োগের যে নিয়ামক ও বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কাজের জন্য মালিক তা উল্লেখ করতে পারে ।

 

দ্বিতীয়ত :

মালিক এ ক্ষেত্রে স্বীকৃত পেশাগত যোগ্যতা (Bona Fide Occupational Qualification (BFOQ) ) উল্লেখ করতে পারে। এতে বলা হয় যে, কেন একজন কর্মীকে নির্দিষ্ট দলের অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। এ দল বলতে বুঝানো হয়েছে লৈঙ্গিক ও ধর্মীয় বৈষম্যকে।

 

উদাহরণ স্বরূপ- পুরুষদের লকার রুমে নারীদের এ্যাটেন্ডডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায় না আবার, এয়ারলাইনস কোম্পানি ফ্লাইট এ্যাটেন্ডডেন্ট হিসেবে পুরুষদেরকে নিয়োগ দিতে চায় না। কারণ এ পদে যাত্রীদের পছন্দ হলো নারী । এ ক্ষেত্রে “Title VII”-এর শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে।

 

তৃতীয় :

যুক্তিটি হলো স্বীকৃত জ্যেষ্ঠতা। সর্বত্রই জ্যেষ্ঠতাকে অনুসরণ করা হয়। কোর্টও তাই পরামর্শ দেয়। এ ক্ষেত্রে বৈষম্য হয় না। তবে সিস্টেম হতে হবে যৌক্তিক ও অন্যান্য বৈষম্যহীন ।

 

চতুর্থ :

যুক্তিটি হলো “ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা”। এ ক্ষেত্রে মালিককে দেখাতে হবে যে, যে ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও দক্ষতার জন্য নেওয়া হয়েছে। কোর্ট অবশ্য ব্যবসায়ের মুনাফা যোগ্যতা বা অর্থনৈতিক বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে ।

 

EEOC এর অধীনে কেন্দ্রীয় আইনসমূহের প্রয়োগ

Leave a Comment